নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও হুগলি: বর্ষ বিদায়ের রাতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বুধবার বিকেলের পর থেকেই কোমর বেঁধেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জাতীয় সড়ক, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে সহ প্রধান সড়কগুলিতে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সর্বত্রই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছিল কমিশনারেট। পথে ছিলেন মহিলা পুলিশ কর্মীরাও। মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য ছিল তাঁদের।
বুধবার বি গার্ডেন, শরৎ সদনের প্ল্যানেটোরিয়াম থেকে শুরু করে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে ভিড় জমান উৎসাহী মানুষজন। ভিড়ের কারণে জাতীয় সড়ক, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং আন্দুল রোডে বিকেল থেকেই যান নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নেয় ট্রাফিক পুলিশ। হাইওয়ের ধারে রেস্তরাঁ ও বারগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। ডোমজুড়, সাঁকরাইল সহ জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে মদ্যপ বাইক আরোহীদের দৌরাত্ম্য রুখতে স্থানীয় থানাগুলি লাগাতার টহলদারি দিয়েছে। হাওড়া শহরের জি টি রোড, ফোরশোর রোড, বেনারস রোড সহ একাধিক ব্যস্ত রাস্তায় বসানো হয়েছিল নাকা পয়েন্ট। ড্রেনেজ ক্যানাল রোড, ক্যারি রোড ও পঞ্চাননতলা রোডেও চলে তল্লাশি। ব্রেথ অ্যানালাইজার মেশিনের মাধ্যমে মদ্যপ চালকদের শনাক্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গভীর রাত পর্যন্ত টহল দিয়েছে পিঙ্ক পেট্রোলিং ভ্যান। হাওড়া মহিলা থানার উইনার্স টিমকে তিনটি দলে ভাগ করে হাওড়া নর্থ, সাউথ ও সেন্ট্রাল জোনের অলিগলিতে বাইকে টহল দিতে দেখা গিয়েছে।
অন্যদিকে, বছরের শেষ দিনে সকাল থেকেই এজেসি বোস ইন্ডিয়ান বোটানিক গার্ডেনে পিকনিকের আমেজে ভিড় জমান পর্যটকরা। এদিন তিন হাজারের বেশি মানুষ এখানে ঘুরতে এসেছেন। পূর্ব বর্ধমান থেকে পরিবার নিয়ে আসা সোহিনী ভট্টাচার্য বলেন, ‘বি গার্ডেনের নাম অনেক শুনেছি। সারাদিন এখানে কাটিয়ে সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিট ঘুরে তারপর ফিরব।’ শরৎসদন চত্বরে থাকা প্ল্যানেটোরিয়ামেও কচিকাঁচাদের ভিড় চোখে পড়ে। জানা গিয়েছে, বছরের শেষ সপ্তাহে এখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে।
বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নানাভাবে সেজে উঠেছে হুগলি। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র বুধবার নানারকম প্রস্তুতি দেখা গিয়েছে। নানা জায়গায় পিকনিকের আয়োজন চোখে পড়েছে। দিল্লি রোড লাগোয়া নানা রেস্তরাঁতেও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনের বহর আর জমজমাট ভিড় দেখা গিয়েছে। সন্ধ্যের পর থেকেই উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল শহর থেকে গ্রাম। এদিকে বর্ষবরণের রাতে দুর্ঘটনার অতীত ইতিহাস থাকায় এদিন ব্যাপক তৎপরতা দেখা গিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন মহলে। হুগলি জেলার নানা এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশের টহলদারি সন্ধ্যের পরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। উৎসবের রাতে বিপদ এড়াতে হুগলি জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেও দেখা গিয়েছে বাড়তি সতর্কতা।