Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জননেত্রীর পদযাত্রা় ঘিরে আবেগ উচ্ছ্বাসে ভাসল হাওড়া শহর

রাস্তার দু’ধারে অপেক্ষমান অগণিত মানুষের দিকে তাকিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাত নাড়তেই যেন আবেগের বাঁধ ভেঙে পড়ছিল। কিছুদিন আগেই জগৎবল্লভপুরের সভামঞ্চ থেকে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, হাওড়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মভূমি।

জননেত্রীর পদযাত্রা় ঘিরে আবেগ উচ্ছ্বাসে ভাসল হাওড়া শহর
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: রাস্তার দু’ধারে অপেক্ষমান অগণিত মানুষের দিকে তাকিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাত নাড়তেই যেন আবেগের বাঁধ ভেঙে পড়ছিল। কিছুদিন আগেই জগৎবল্লভপুরের সভামঞ্চ থেকে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, হাওড়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মভূমি। শনিবারের বিকেলে সেই দাবির বাস্তব প্রতিফলন যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল হুগলি নদী তীরবর্তী এই শহরে। হাওড়া ময়দান থেকে পিলখানা মোড় পর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনি পদযাত্রা রীতিমতো উৎসবের আবহ তৈরি করে। প্রিয় নেত্রীকে একঝলক দেখার আশায় জমে ওঠা মানুষের ঢল যেন জানিয়ে দিল, এই জনপদ এখনও ঘাসফুলের উর্বর ভূমি।

Advertisement

প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টিতেও সদাব্যস্ত হাওড়া ময়দান চত্বর এদিন অন্য এক আবেগে ভরপুর ছিল। এটি ছিল না দৈনন্দিন ব্যস্ততার ভিড়, বরং ছিল নিখাদ সমর্থন ও ভালোবাসার সমাবেশ। ধামসা-মাদলের তালে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অসংখ্য কর্মী-সমর্থক অংশ নেন এই পদযাত্রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন হাওড়া সদরের পাঁচ কেন্দ্রের প্রার্থী—গৌতম চৌধুরি, অরূপ রায়, নন্দিতা চৌধুরী, রানা চট্টোপাধ্যায় ও কৈলাস মিশ্র। হাওড়া ময়দান থেকে বাঙালবাবুর ব্রিজ পেরিয়ে রেল কোয়ার্টারের পাশ দিয়ে এগতে থাকলে রাস্তার দু’পাশে জমে ওঠা মানুষের সারি যেন হয়ে উঠেছিল এক চলমান ক্যানভাস। সেই ভিড়ের মাঝেই তরুণ শিল্পী ঋষভ বিশ্বাস নিজের আঁকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা দুর্গার প্রতিকৃতি তুলে দেন নেত্রীর হাতে। ডবসন রোডে পৌঁছতেই উচ্ছ্বাস আরও তীব্র হয়। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ রোডে দীর্ঘক্ষণ হুইলচেয়ারে বসে অপেক্ষা করা আনোয়ার আলি বলেন, ‹কেন্দ্রের কাছে আমরা আর নাগরিক নই। কিন্তু আমাদের অধিকারের জন্য দিদিই লড়ছেন, তাই তাঁর জন্য অপেক্ষা করাটা কষ্ট নয়।›
অবনী দত্ত রোড ধরে মিছিল পিলখানা মোড়ের দিকে এগতেই দু’পাশের বহুতলের ব্যালকনি থেকে শুরু হয় ফুলের বৃষ্টি। তীব্র গরম উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মুখগুলো স্পষ্ট বলে দিচ্ছিল, পদ্মফুলের ভাঁওতাবাজিতে নয়, জোড়া ফুলের জন্মদাত্রীকেই বাংলার মসনদে দেখতে চান তাঁরা। শেষ বিকেলে পিলখানা মোড়ে পৌঁছয় পদযাত্রা। তখন সন্ধ্যার আবছায়ায় জৈন মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি ও মসজিদের আজানের সঙ্গে মিলেমিশে যায় রাজনৈতিক স্লোগান, সম্প্রীতির শহর যেন এক অনন্য সুরে ধ্বনিত হতে থাকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ