Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জমা জল মাড়িয়ে পাত্রপক্ষ আসবে কীভাবে? পাম্প বসিয়ে মুশকিল আসান পুরসভার

কর্দমাক্ত সেই জল উপচে পড়েছে গলিপথেও। এমন দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন লিলুয়ার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভাস্কর দে

জমা জল মাড়িয়ে পাত্রপক্ষ আসবে কীভাবে? পাম্প বসিয়ে মুশকিল আসান পুরসভার
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বর্ষা কবেই বিদায় নিয়েছে, শীতও প্রায় অস্তাচলের পথে। তবে বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার সৌজন্যে লিলুয়ার কয়েকটি রাস্তায় এখনও জমে রয়েছে নোংরা জল। কর্দমাক্ত সেই জল উপচে পড়েছে গলিপথেও। এমন দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন লিলুয়ার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভাস্কর দে। আজ, শুক্রবার মেয়ে অন্বেষার বিয়ে। কিন্তু বাড়ির সামনের ভুজঙ্গ ধর রোড কার্যত পাঁক ও দুর্গন্ধযুক্ত জলে একাকার হয়ে থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন পাত্রীপক্ষ ও এলাকাবাসী। সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এল বালি পুরসভা। তড়িঘড়ি পাম্প বসিয়ে জল সরানো হয় বিয়ে বাড়ির সামনে থেকে।

Advertisement

লিলুয়া পটুয়াপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা জমা জলের সমস্যায় ভুগছেন। বর্ষা শেষ হয়ে গেলেও নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক না হওয়ায় গলির পর গলি নোংরা জলে ভরে থাকে। প্রতিদিন সেই জল মাড়িয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। তাছাড়া জমা জলের কারণে এলাকায় পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। মশা, মাছি ছাড়াও নানা ধরনের পোকায় অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। অনেকেরই চর্মরোগ, চুলকানি ও ত্বকে সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আতঙ্ক আরও বেশি। সম্প্রতি মহানালা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার কিছু অংশে জল নামলেও এখনও দু’-একটি পকেটে সমস্যা থেকেই গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই বিয়ে বাড়ির সামনে জমা জল বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্বেষার পাত্রপক্ষ আসবে উত্তরপাড়া থেকে। কোনওমতে তাঁর বিয়ের মণ্ডপ তৈরি হলেও নোংরা কাদা জল পেরিয়ে আসতে হবে অতিথিদের। এই অবস্থায় তাঁদের বরণ করা যে কার্যত অসম্ভব! বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবেশীরাও একত্রিত হন। শেষ পর্যন্ত পাত্রীর পরিবার বালি পুরসভার দ্বারস্থ হয়। সমস্যার কথা জানালে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরসভার প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে বুধবার সকালেই পাত্রীর বাড়ির সামনে বসানো হয় পাম্প। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জমা জল নেমে যায়।

পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত পাম্প চালু থাকবে। পাশাপাশি, গোটা এলাকায় যাতে স্থায়ীভাবে জল জমার সমস্যা না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। জমা জল সরে যেতেই স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। বাসিন্দাদের কথায়, পুরসভার এই তৎপরতায় শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা পাড়ার সম্মান রক্ষা পেল। তবে সারা বছর পুরসভা এই তৎপরতা দেখালে ভালো হত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ