Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কীভাবে হাত ধুলে দূরে থাকবে ইনফেকশন?

সুস্থ থাকতে সঠিক উপায়ে কীভাবে হাত পরিষ্কার করবেন? পরামর্শে পিজি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডাঃ সুগত দাশগুপ্ত

কীভাবে হাত ধুলে দূরে থাকবে ইনফেকশন?
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুস্থ থাকতে সঠিক উপায়ে কীভাবে হাত পরিষ্কার করবেন? পরামর্শে পিজি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডাঃ সুগত দাশগুপ্ত 

Advertisement

হাত ধোয়া কেন জরুরি? 
করোনার সময় সুস্থ থাকার জন্য বারবার হাত ধোয়ার উপর জোর দেওয়া হতো। আসলে সব রকম সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়া খুব জরুরি। কারণ যে কোনও সংক্রমণ সবথেকে বেশি ছড়ায় হাত দিয়ে।
রোগী এবং সংক্রমিত ব্যক্তি— এই দু’জনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এমনও হতে পারে একজন ব্যক্তি রোগী নন, কিন্তু জীবাণু বহনকারী। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করা ও রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার মাঝের সময়কে বলা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড। করোনার সময় এই বিষয়গুলি আকছার দেখা গিয়েছিল। ফলে রোগী নন অথচ সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কোনও জিনিসে হাত রাখেন, বা তাঁর সর্দি, কাশি থেকে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ এক্ষেত্রে হয়ে থাকে, মূলত নাক দিয়ে সেগুলি ঢোকে। আমরা অনেক সময় অজান্তেই চোখে-মুখে-নাকে হাত দিয়ে ফেলি। হাত ধুলে এই ধরনের সংক্রমণ অনেক সময় এড়ানো যায়। তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য হাত ধোয়াটা প্রয়োজন। 


হাত ঠিকভাবে না ধুলে, কী কী জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে? 
বুক এবং পেটের সংক্রমণ যে সমস্ত জীবাণুর মাধ্যমে হয় (ব্যাকটেরিয়া / ভাইরাস), সেই সবগুলির জন্য হাত ধোয়া দরকার। ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড, অ্যাডিনো, যে কোনও সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, পেট খারাপ সবক্ষেত্রে হাত ধোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।


কখন হাত ধোবেন? 
মনে রাখতে হবে পাঁচটি সময়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। 
১) যে কোনও রোগী বা সংক্রমিত ব্যক্তিকে স্পর্শের আগে হাত ধুতে হবে। এটা আপনার জন্য যেমন জরুরি, একইভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে যেন অন্য কোনও জীবাণু ঢুকতে না পারে, সে কারণেও দরকার। কোনও শিশু, বয়স্ক মানুষের সংস্পর্শে আসার আগেও হাত ধোয়াটা জরুরি। পোষ্যের গায়ে হাত দেওয়ার পরেও হাত ধুয়ে নিন। 
২) কোন ব্যক্তির বডি ফ্লুইড (যেমন কফ বা লালা, থুথু) যদি লেগে যায়, তাহলেও হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৩) মূলত স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। যে কোনও রকম প্রসিডিউর করার আগে ও পরে হাত ধোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
৪) কোনও সংক্রমিত ব্যক্তি বা রোগীর বিছানা, বালিশ, আসবাব বা তাঁর আশপাশের জায়গায় হাত রাখার পরে অবশ্যই হাত ধুতে হবে। যদি দেখেন কোনও ব্যক্তির সর্দি বা কাশি হয়েছে, তাঁর কাছে যাওয়ার আগে ও পরে হাত ধুয়ে নেবেন।
৫) প্রতিবার শৌচকর্মের পরে হাত ধোবেন সাবান দিয়ে।
হাত ধোয়ার কয়েকটি মূল সময় 
১) বাইরে থেকে বাড়িতে আসার পর। 
২) যখন হাত মুখের কাছে যাচ্ছে, অর্থাৎ খেতে বসার আগে ও পরে। চামচ দিয়ে খেলেও হাত ধোয়াটা জরুরি। রাস্তায় কিছু খেলেও হাত ধুয়ে খাওয়াটা দরকার। 

৩) ঘুমানোর সময় আমাদের হাত নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে কোথায় কোথায় চলে যায়, আমরা কেউ জানি না। ফলে সেখানেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শোয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নেবেন।  


কী দিয়ে হাত ধোবেন?

হাত দু’ভাবে নোংরা হতে পারে। প্রথমত, হাতে ধুলোবালি ইত্যাদি লেগে ময়লা হয়েছে, সেটা দেখে বোঝা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে হাত পরিষ্কার, কিন্তু আসলে তা নয়। প্রথম ক্ষেত্রে, অর্থাৎ দৃশ্যত হাত ময়লা হলে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। তারপর হাত স্যানিটাইজ করে নিতে পারেন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ধরা যাক, আপনি বাড়িতে রয়েছেন। হাতটা আপাতভাবে দেখে মনে হচ্ছে পরিষ্কার, সেক্ষেত্রে কিছু খাওয়ার আগে হাতটা স্যানিটাইজ করে নিন। ক্লোরহেক্সিডিন ২.৫ শতাংশ এবং ইথাইল অ্যালকোহল ৭০ শতাংশ রয়েছে এমন অনুপাতে থাকা স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। মাথায় রাখবেন, হাত ধোয়া আর স্যানিটাইজ করা বিকল্প নয়। 

হাত ধোয়ার পদ্ধতি কী? 
হাত পরিষ্কার করার জন্য ছ’টি ধাপে হাত ধুতে হবে। 
১) প্রথমে দু’হাতের তালু ঘষুন। 
২) হাতের আঙুল দিয়ে হাতের পিছন দিকটা ঘষতে হবে। 
৩) হাতটা মুঠো করে হাতের গাঁটগুলি ধুয়ে নিন। 
৪) আঙুলের ফাঁকগুলি পরিষ্কার করুন। 
৫) বুড়ো আঙুল আলাদা করে ধুতে হবে। 
৬) কব্জি অব্দি ভালো করে ধুয়ে নিন। মোট ৪০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
মনে রাখবেন, হাত ধোয়া কেবল নিজের জন্য নয়, নিজের প্রিয়জনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, পরিষ্কার হাত মানেই সুস্থ জীবন।


লিখেছেন শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ