Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঋণের টাকা ফেরত কীভাবে? জরুরি বৈঠকে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক

ঋণের টাকা ফেরত কীভাবে?  জরুরি বৈঠকে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ঘোর দুশ্চিন্তায় জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক। শুক্রবার তারা চাকরিহারা শিক্ষকদের কাছ থেকে ঋণের টাকা উদ্ধারে জরুরি বৈঠক করে। প্রাথমিকভাবে ঋণগ্রহীতা চাকরিহারা শিক্ষকের সংখ্যা ৩০ জন। তাঁদের কারও ৩ লক্ষ, কারও ১৬ লক্ষ, আবার কারও ঋণের পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ধারণা। জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ঋণ নেওয়া প্রচুর শিক্ষক চাকরি খুইয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে টাকা ফেরত পেতে আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। এখন ঋণগ্রহীতা শিক্ষকদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। 

Advertisement

উত্তরবঙ্গে সমবায় ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে অন্যতম জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক। জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার হলদিবাড়িতে তাদের শাখা প্রায় ১৯টি। প্রতিটিতেই শিক্ষকদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁরা ব্যাঙ্কের সঙ্গে নিয়মিত লেনদেন করেন। টাকা গচ্ছিত রাখার পাশাপাশি ঋণও নেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের একাংশের চাকরি চলে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তাঁদের একাংশ বিপুল অঙ্কের টাকার লোকসান আশঙ্কা করছেন। এজন্যই জলপাইগুড়িতে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান। ঋণ নেওয়া শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 
জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে ঋণগ্রহীতা শিক্ষকের সংখ্যা ৩০ জন। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় তাঁদের বাড়ি। এঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত কারণে ঋণ নিয়েছেন তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। আবার কারও ঋণের পরিমাণ ১৬ লক্ষ টাকা। কেউ কেউ আবার বাড়ি তৈরি ও গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নিয়েছেন ২০ লক্ষ টাকা। 
সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন, ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের বিশাল অংশই শিক্ষক। অধিকাংশই এখান থেকে ঋণ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কতজন চাকরি হারিয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাজেই, ঋণগ্রহীতা চাকরিহারা শিক্ষকের সংখ্যা বাড়তে পারে। আপাতত হিসেবের কাজ চলছে। এছাড়াও প্রায় তিনশো স্কুলে রয়েছে ক্রেডিট সোসাইটি। সেগুলিতেও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে টাকা বরাদ্দ করা হতো। সেগুলি থেকে কারা ঋণ নিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। 
ওই শিক্ষকদের একাংশ অবশ্য বলেন, চাকরির উপর ভরসা করেই ঋণ নিয়ে ছিলাম। এখন চাকরি নেই। সেই ঋণ মেটাব কীভাবে তা ভেবেই পাচ্ছি না। ঋণ মুকুব না করলে পথ বসতে হবে। ব্যাঙ্কের বোর্ড মেম্বার কাজল ঘোষ বলেন, এখনই কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ঋণের পরিমাণ নিয়ে রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। চেয়ারম্যান বলেন, ঋণগ্রহীতা শিক্ষকদের তালিকা তৈরির পর রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের শিলিগুড়ি শাখাও চাকরিহারা শিক্ষকদের কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায় নিয়ে চিন্তায় রয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ