Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কীভাবে বাড়িতেই ‘নার্সিং’, কেমন হবে জ্বরের ডায়েট ?

কেমন হবে প্রবল জ্বরের ডায়েট আর পরিচর্যা? পরামর্শে নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান শতভিষা বসু ও বেলভিউ ক্লিনিকের ডেপুটি নার্সিং ডিরেক্টর রূপালি ঘোষ।

কীভাবে বাড়িতেই ‘নার্সিং’, কেমন হবে  জ্বরের ডায়েট ?
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কেমন হবে প্রবল জ্বরের ডায়েট আর পরিচর্যা? পরামর্শে নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান শতভিষা বসু ও বেলভিউ ক্লিনিকের ডেপুটি নার্সিং ডিরেক্টর রূপালি ঘোষ।

Advertisement

ডায়েট: জ্বর হওয়া মানেই মুখে অরুচি। বাড়ির খাবার যেন গলা দিয়ে নামে না। কেউ কেউ স্বাদ পরিবর্তনের জন্য একটু ঝাল-টকের দিকে ঝোঁকেন। তবে ডায়েটিশিয়ানের কথায়, জ্বর থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে খাওয়া-দাওয়ার উপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এনার্জি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। শরীর যাতে ডিহাইড্রেটেড না হয়, তাও মাথায় রাখতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার জল খেতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জল খাওয়ায় একটু সমস্যা থাকে। তাই ডাবের জল, লেবু ও নুন-চিনির জল, ওআরএস খাওয়ানো যেতে পারে। এই সময় খাদ্যতালিকায় ভেজ স্যুপ বা চিকেন স্যুপ থাকলে ভালো। বড়োরা তুলসী, আদা, লবঙ্গ ইত্যাদি দিয়ে চা খাওয়া যেতে পারে। শরীর এইসময় বেশ দুর্বল থাকে। তাই মশলাদার খাবার না খাওয়াই ভালো। এতে বদহজম, ডায়রিয়া সহ নানা সমস্যা হতে পারে। সহজপাচ্য, পুষ্টিকর ও তরল খাবার খাওয়াই ভালো। খিচুড়ি, সুজি, চিঁড়ে সেদ্ধ, ভাত ডাল সহ হালকা খাবারই যথেষ্ট। বেদানা, পাকা পেঁপে সহ নানা রকমের ফল খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত দুধ, ঘি, তেলেভাজা এড়িয়ে চলা ভালো। রুটিন মেনে খেতে হবে।

আপনিই হয়ে উঠুন নার্স: বাড়িতে জ্বরের রোগীর কাছে আপনি হয়ে উঠুন নার্স। মা-বাবা, পরিচারিকা বা বাড়ির অন্য সদস্য। কিছু প্রয়োজনীয় টিপস মাথায় রাখলেই প্রিয়জনের ভালোভাবে খেয়াল রাখা সম্ভব। এক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টির মূল্যায়ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মেপে তা নোট করে রাখতে হবে। কোনোরকম বাড়াবাড়ি হলে ডাক্তারকে খবর দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ মতোই ওষুধ খাওয়াতে হবে। তাপমাত্রা বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। তাই বলে ঘন ঘন ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। খাওয়া-দাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান, বিশ্রাম সহ একাধিক বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে। কোথাও কোনো রক্তক্ষরণ বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। ডাক্তারকে জানাতে হবে। নাহলে বড়ো বিপদ হতে পারে। তাপমাত্রা বাড়ছে দেখেই অনেকে অতিরিক্ত বরফ জল ঢালতে শুরু করেন। কম্বল চাপিয়ে শুইয়ে রাখেন। এসব করার প্রয়োজন নেই। হালকা পোশাক, হালকা চাদর গায়ে দেওয়া যেতে পারে। সবসময় পাশে থেকে খুঁটিনাটি বিষয়ের উপর নজর রাখলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে আপনার প্রিয়জন।   লিখেছেন শোভন চন্দ

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ