পরামর্শে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমিতা সাহা।
পরামর্শে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমিতা সাহা।
আজকাল অধিকাংশ পরিবারের একটি বা দু’টি সন্তান। প্রতিটি বাবা-মা চান তাঁদের সন্তান যেন মেধাবী হয়। শিশুজীবনের প্রথম ১০০০ দিন মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়কালের প্রতিটি যোগাযোগ স্নায়ুকোষের সংযোগকে দৃঢ় করে এবং শিশুর মানসিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। তাই সন্তানের মানসিক বিকাশকে আরও স্বচ্ছ ও ক্ষুরধার করে তুলতে চাইলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নজর দিন।
কাজকর্ম বর্ণনা করুন: আপনি যা করছেন তা শিশুকে বলুন। যেমন: ‘আমি এখন লাল তোয়ালেটা ভাঁজ করছি।’ বা ‘এখন একটু গান শুনব’। আসলে শিশুর শোনা শব্দের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য যত বেশি হবে, তার শব্দভাণ্ডার ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ তত উন্নত হবে। একটু উচ্চ ও টানযুক্ত স্বরে শিশুর সঙ্গে কথা বলুন। এই ধরনের ‘বেবি টক’ শিশুদের শব্দের পার্থক্য করতে শেখায় ও ছন্দ বুঝতেও সাহায্য করে।
একসঙ্গে বই পড়ুন: জন্ম থেকেই শিশুকে বই পড়ে শোনান। এতে তারা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ বেশি শব্দ শুনতে পায় যা ভাষা ও কল্পনাশক্তি বাড়ায়।
সংগীতের আবহ: সংগীত মস্তিষ্কের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে, জ্ঞান, আবেগজাত ও মোটর দক্ষতা উন্নত করে। গর্ভাবস্থার সময় থেকেই প্রসূতি গানবাজনা শুনলে গর্ভস্থ শিশুর ভাষাজ্ঞান ও শিখনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অটিজমের মতো নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সমস্যাতেও এই থেরাপির অবদান আছে ।
শব্দ ও রঙে গুরুত্ব: শিশু যখন কোনো শব্দ করে বা অঙ্গভঙ্গি দেখায়, সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিন। এতে মস্তিষ্ক সুগঠিত হয়। নবজাতককে সাদা-কালো ও রঙিন নকশা দেখান। এতে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়, মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
টামি টাইম: শিশুকে মা-বাবার পেটের উপর কিছুটা সময় রাখুন। সংবেদনশীলতা শেখার জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
মস্তিষ্কবর্ধক পুষ্টি কী ?
ব্রেস্ট ফিডিং: জন্মের পর থেকে অন্তত ছ’মাস একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানো মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। কারণ এতে ডিএইচএ-র মতো অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে।
অন্যান্য কিছু পুষ্টি উপাদান
কোলিন: ডিমে পাওয়া যায়, যা স্মৃতির কেন্দ্র হিপোক্যাম্পাসের জন্য অপরিহার্য।
ওমেগা থ্রি: মাছে থাকে, মস্তিষ্কের কোষবৃদ্ধিতে সহায়ক।
আয়রন ও ফোলেট: শাক-সবজি ও ডালজাতীয় খাবারে থাকে। মানসিক কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
পরিবেশগত উপাদান
• ২৪ মাস বয়সের আগে শিশুদের স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখুন। • নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন। • শিশুর সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটান, যতটা সম্ভব তাকে কোলে নিন। শিশুকে প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখুন এবং বন্ধুদের সঙ্গে মিশে খেলাধুলায় উৎসাহ দিন।