কেন গার্গল করা উচিত?
কেন গার্গল করা উচিত?
সংক্রমণ প্রতিরোধ: নুন-জল বা অ্যান্টিসেপ্টিক সলিউশন দিয়ে গার্গল করলে গলার ও মুখের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস হয়। ফলে সর্দি, কাশি, ফ্লু বা ভাইরাল ফিভারের মতো বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
গলা ব্যথা ও ফোলাভাব: অনেকেই ঠান্ডায় গলা ব্যথা বা গলা ফুলে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। ফলে কথা বলতে ও খাবার গিলতে অস্বস্তি হয়। গার্গল করলে এই সমস্যা কমে। গলার প্রদাহও এতে অনেকটা কমে যায়।
শ্লেষ্মা পরিষ্কার: শীতকালে গলায় শ্লেষ্মা বা কফ বসে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। গার্গল করলে গলায় জমে থাকা ঘন কফ বা শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে যায় এবং সহজে বেরিয়ে আসে, যার ফলে শ্বাস নিতে সুবিধা করে।
কীভাবে গার্গল করবেন
গার্গলের নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। তবে আমরা অনেক সময় ইচ্ছেমতো গরম জল নিয়ে গার্গল করি। কিন্তু তাতে অনেক সময় অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। ২৫০ মিলিলিটার গরম জল নিন। তাতে অর্ধেক চামচ নুন মেশান। এরপর ওই জল গলার পিছন দিকে নিয়ে গিয়ে গার্গল করুন। অতিরিক্ত নুন মেশাবেন না। জল যেন খুব বেশি গরম না হয়, তাহলে তা মুখ বা গলা পুড়িয়ে দিতে পারে।
কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন
যাদের হাই প্রেশার বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের নুন জল দিয়ে গার্গলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ ভুলবশত ওই জল গিলে ফেললে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে এই নিয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। যদি গার্গল করার কিছুদিন পরেও গলায় ব্যথা বা ফোলাভাব থাকে কিংবা প্রদাহ অনুভূত হয়, তাহলে তা অন্য কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে ইএনটি বা সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অনেকেই সারা বছর ধরে গার্গল করে থাকেন। সেটিও ঠিক পদ্ধতি নয়। ৭ বা ১৫ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে গার্গল করা উচিত। এক্ষেত্রেও চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
লিখেছেন শুভজিত্ অধিকারী