ক’দিন পরই পরীক্ষা। সেজন্যই তো যত আয়োজন। লোক সমাগম। কাজের খতিয়ান। প্রতিশ্রুতির মিছিল। ঘন্টাপিছু কয়েকশো মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ। বিরোধিপক্ষের মিসাইল হানা। পাল্টা বিমান হানার প্রস্তুতি। সবমিলিয়ে ভরা গ্রীষ্মে বাংলার ভোটবাজারও গরম। উচ্চকিত চেঁচামিচি, হইচই, শত্রু-মিত্রের ভিড়, হাজারও ক্যালকুলেশনের মধ্যে প্রার্থীদের পক্ষে শান্ত থাকা এক বিষম বস্তু। সত্যিই কীভাবে শান্ত থাকছেন, স্ট্রেসকে কাবু করছেন ঝানু রাজনীতিবিদরা? মাথা ঠান্ডা রাখতে তরুণদের প্রতি কী পরামর্শ তাঁদের?
ভোট রাজনীতিতে ছ’বারের প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একবার কাউন্সিলার ভোটে। উপ নির্বাচন ধরে বাকি পাঁচবার বিধানসভা নির্বাচনে। উত্তর দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের এই তৃণমূল প্রার্থী বললেন, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী চলি। ছোটদেরও বলব, যে দলের হয়েই ভোটে দাঁড়ান, তাদের চাহিদা মাথায় রাখুন। ৫০ বছর রাজনীততে আছি। সবসময় বিপদে আপদে পাশে পেয়েছি রবীন্দ্রনাথকে। তিনিই পরম ভরসার। তাঁর সঞ্চয়িতা, গীতবিতান স্পর্শ করলে আপনা থেকেই মন শান্ত হয়। এমন কোনও আবেগ নেই, যা নিয়ে কবিতা বা গান লেখেননি। ভোটের উত্তেজনার মাঝে তিনিই শান্ত রাখেন। আমার স্ট্রেস কাটিয়ে দেন। এমনিতে খুব একটা রাগী নই। মহিলা সংগঠন করি। হয়ত কখনও বকাঝকা করলাম। তারপর আবার যেই কে সেই। ওরাও বোঝে আমায়।
সদা বিতর্কিত চরিত্র খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ নিজ ক্যারিশমায় উজ্জ্বল। বললেন, চারবার ভোটে দাঁড়াচ্ছি। দু’বার বিধানসভা, দু’বার লোকসভায়। সবসময়ই ঠাণ্ডা। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করি। ভোটের সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে সঠিক খাদ্যভ্যাস বা ডায়েটও জরুরি বলে মনে করেন দিলীপবাবু। বললেন, প্রচারের জন্য মর্নিং ওয়াক কম হচ্ছে। তাও অল্পসময়ের মর্নিং ওয়াকও স্ট্রেস কাটায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অ্যাকটিভ থাকতে নর্মাল খাবার খাই। ডাল, ভাত, সব্জি। অনিয়ম করি না, বেশি খাবার খাই না। কখনও চাপ বেশি থাকলে ঘুম কম হয়। প্রথমবারের তরুণ প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, পাশে বিশ্বাসী লোক কম পাবেন। টুকটাক ভুলভ্রান্তি হবে। মিডিয়াকে ফেস করতে হবে। স্ট্রেস-টেনশন বাড়বে। মেজাজ খারাপ হবে। মাথা ঠাণ্ডা রেখে প্ল্যান করে কাজ করুন। মানুষের সঙ্গে কথা বলাকে অগ্রাধিকার দিন। সঙ্গে নিয়ম মেনে খাবার খেতে হবে।
এনিয়ে তৃতীয়বার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। সিপিএম প্রার্থীর আসন টালিগঞ্জ। বললেন, এমনিতেই মাথা গরম করি না। না বাইরে। না ঘরে। চারপাশের উত্তেজনার পরিবেশে বাড়িতে এসে মনকে আরও শান্ত করে দেয় সত্তরের দশকের প্রিয় গানগুলি। বলব, বিরোধী রাজনীতির মানুষদের শত্রুপক্ষ না ভাবলে আরও শান্ত হবেন। আসল কথা নীতির। আর কথার বদলায় আরও কথা না বলে সেই সময়ে যদিও আরও চারজন মানুষের সঙ্গে দেখা করা যায়, বেশি কাজ হয়। সদ্য ভোট রাজনীতিতে আসা যুবক-যুবতীদের বলব, হার বা জিতের বাইরেও এই লড়াইয়ের শিক্ষাটা ভুলবেন না কোনওদিন। কাজে আসবে ঠিক।
বিশ্বজিৎ দাস ও রাজদীপ গোস্বামী