রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: এসআইআরে বাঁকুড়া জেলায় বহু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দুদেরও অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। বুথপিছু কত হিন্দু ভোটার এসআইআরে বাদ পড়েছেন, তা জানতে বাঁকুড়ায় সমীক্ষা চালাচ্ছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের নেতারা বিভিন্নভাবে বুথওয়াড়ি নাম বাদের তালিকা জোগাড় করছেন। গত নির্বাচনগুলিতে তৃণমূলের সঙ্গে ওইসব বুথে কত ব্যবধান ছিল, সেই তথ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আগে থেকেই রয়েছে। তার সঙ্গে এসআইআরে নাম বাদের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লাভ-ক্ষতির হিসাব কষতেই গেরুয়া শিবির সমীক্ষা শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
বিজেপি-র বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস বসু বলেন, বুথভিত্তিক কত হিন্দু নাম বাদ পড়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে বাদ পড়া বেশিরভাগ হিন্দু হয় অনুপস্থিত ছিলেন, মারা গিয়েছেন অথবা দু’জায়গায় তাঁদের নাম রয়েছে। সেই কারণে এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে তাঁরা বাদ পড়েছেন।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি সবেতেই বিভাজন করে। এসআইআরে সব ধর্মের ভোটারকেই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বিজেপিকে ভোটে এসআইআরের মাশুল দিতে হবে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় এসআইআর শুরুর আগে বাঁকুড়ায় মোট ৩০ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটার ছিল। এসআইআরের প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় সকলকেই তার আওতায় আনা হয়। ভোটারদের মধ্যে বাম, বিজেপি, তৃণমূল সহ বিভিন্ন দলের সমর্থক রয়েছেন। কেউ কেউ আবার ‘নোটা’তেও নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। পছন্দের নির্দল প্রার্থীকেও অনেকে ভোট দেন। গত কয়েকটি নির্বাচনে জঙ্গলমহলে তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে সমানে-সমানে টক্কর হয়েছে। শেষ মুহূর্তে একদল বাজিমাত করলেও অন্য পক্ষের জনসমর্থন সমীহ করার মতো ছিল। ফলে এসআইআর নিয়ে যুযুধান দুই শিবিরেই চরম প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। দলের একজন সমর্থকেরও নাম যাতে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তারজন্য তৃণমূল শ্যোনদৃষ্টি বজায় রেখেছিল। আবার তালিকা থেকে ‘বেনোজল’ বের করতে বিজেপিও উঠেপড়ে লাগে। কমিশন এসআইআর করলেও দুই ফুলের শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ সমানে চলেছে।
জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় প্রথম দফার ঝাড়াই-বাছাইয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ে। তাঁদের মধ্যে অনেক মৃত ভোটার ছিল। পরে প্রায় ৩৯ হাজার ভোটার বিবেচনাধীনের আওতায় পড়েন। তারমধ্যে দু’দফায় জেলায় প্রায় ১০ হাজার ভোটার বাদ পড়ে। ফলে সামগ্রিকভাবে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বাদ পড়া ভোটারদের বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত বলে তৃণমূল দাবি করেছে। বাঁকুড়া হিন্দু অধ্যুষিত জেলা। ফলে মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু নাম এই জেলায় বেশি বাদ যায়নি। সেই কারণে এসআইআর নিয়ে বাঁকুড়ায় বিজেপি নেতৃত্ব সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে। লালমাটির জেলায় বিষয়টি পদ্ম শিবিরের কাছে ব্যুমেরাং হতে পারে বলেও বিজেপি নেতাদের একাংশ মনে করছে। ঘনিষ্ঠমহলে এনিয়ে বিস্তর কাটাছেঁড়া করলেও প্রকাশ্যে গেরুয়া শিবির এসআইআরের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারছে না।