নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা: দেশে আপাতত সার্বিকভাবে বর্ষার বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও ধান, ডাল, তৈলবীজ, মোটা দানাশস্য, তুলো, আখ প্রভৃতি খরিফ ফসল চাষের জমির পরিমাণ মোটামুটি গতবছরের মতোই রয়েছে। কিন্তু ফলন কতটা হবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে বর্ষার শেষ মাস সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির উপর। আর এটি নিয়েই চিন্তিত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, সেপ্টেম্বরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকে। কিন্তু ফসল পরিপক্ব হওয়ার জন্য এমাসে কিছুটা বৃষ্টি হওয়া খুব দরকার। তিনি জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সেপ্টেম্বর মাসের বৃষ্টির গতিপ্রকৃতি কীরকম থাকবে সেই ব্যাপারে একটি পূর্বাভাস জারি করবে। আরও পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে তখন।
তবে আপাতত আবহাওয়াবিদরা যা বলছেন, তাতে একটি উদ্বেগ থাকছেই। কারণ দিনে দিনে শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো। আগামী দিনে এই প্রবণতাই বজায় থাকবে। এবার, ‘সুপার’ এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এল নিনোর সক্রিয়তা বাড়লে দেশে বৃষ্টি উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে বৃদ্ধি পায় তাপমাত্রাও। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরের ডাইপোল পরিস্থিতি (মহাসাগরের দুই প্রান্তের জলের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য) এখনো নিউট্রাল অবস্থায় আছে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরে এরকমটাই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত মহাসাগরের ডাইপোল পরিস্থিতি পজিটিভ হলে তা এল নিনোর প্রভাবকে কিছুটা প্রশমিত করে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করেন। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা বিশেষ নেই।
আপাতত দেশে সার্বিকভাবে বর্ষা মরশুমে দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। দেশের চারটি অঞ্চলের মধ্যে বৃষ্টির ছবি সবচেয়ে ভালো মধ্য ভারতে। সেখানে দীর্ঘকালীন গড়ের ২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ২৭ শতাংশ কম, উত্তর-পশ্চিম ভারতে ১১ শতাংশ কম এবং দক্ষিণ ভারতে ২২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। জুন মাসে দেশে খুব কম বৃষ্টি হয়েছিল। সার্বিক ঘাটতি ছাড়িয়েছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু জুলাই ও আগস্ট মাসে এখনো পর্যন্ত মোটামুটি ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এতে গোটা দেশে ঘাটতির মাত্রা অনেকটাই কমেছে।
পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ সার্বিকভাবে স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে। দেশে বৃষ্টি বৃদ্ধির একটি বড়ো কারণ এই দুমাসে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ। এর প্রভাব পড়েছে পূর্ব ও মধ্য ভারতের সঙ্গে উত্তর ভারতের একটি বড়ো অংশেও। উত্তর ভারত জুড়ে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টির কারণে বৃষ্টি বেড়েছে। এই প্রবণতা আগামী মাসেও বজায় থাকলে কোনো চিন্তা নেই। মত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু নিম্নচাপ সৃষ্টি কমে গেলেই বৃষ্টির পরিমাণের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেটাই এখন চিন্তার।