পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ (মনরেগা) বন্ধ হয়েছে ২০২২ সালে। তার আগে পর্যন্ত এই খাতে কেন্দ্রের কাছে বাংলার হকের পাওনা আটকে ছিল ৬,৯১৯ কোটি টাকা। স্বাভাবিক নিয়মে তারপরে বাংলার জন্য লেবার বাজেট বরাদ্দ হলে রাজ্য আরও ৫০,৩৪৪ কোটি টাকা পেত। কিন্তু রাজ্যকে সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়নি। এই টাকা রাজ্যে আসার মানে, বাংলার গরিব মানুষগুলি হাতে হাতে কাজ পেতেন। মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত এই কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প কংগ্রেস জমানায় চালু করার উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত মহৎ। ভারতের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা বৈষম্য ও বেকারত্ব। তার প্রধান বলি গরিব মানুষ। এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি গ্রাম ভারতে। তাই এমন একটি আইন তৈরি করা হয়েছে যে, গ্রামের যেকোনও মানুষ দাবি করামাত্র সরকার তাঁকে বছরে অন্তত ১০০ দিনের কাজ দিতে বাধ্য থাকবে। গত দুই দশকে ভারতে দারিদ্র্য অবশ্যই কিছুটা কমেছে। তার পিছনে মনরেগা প্রকল্প রূপায়ণের কৃতিত্ব যে বিরাট, তাতে সন্দেহ কী? বলা বাহুল্য, মনমোহন সিংয়ের দুটি ইউপিএ জমানাতেই মনরেগা রূপায়ণে বেশ গতি ছিল। জনমুখী প্রকল্পটির বারোটা বাজানো হয়েছে মোদিযুগে। যখন কাজের দিন বৃদ্ধির দাবি জোরালো হচ্ছে, তখনই এই খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ছেঁটে দেওয়া হয়েছে। তারই মধ্যে চলেছে ‘সিঙ্গল ইঞ্জিন’ সরকারগুলির সঙ্গে চরম বঞ্চনার খেলা। অবিজেপি রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে মোদিবাবুদের সবচেয়ে অপছন্দের হল বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকার। কারণ এই সরকারের নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি দিল্লির যেকোনও অনাচারের কট্টর সমালোচক এবং আজন্ম আপসহীন প্রতিবাদী। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে বারবার হেরে গিয়ে বস্তুত বাংলার গরিব মানুষকেই কষ্ট দিয়ে চলেছে কেন্দ্র। দুর্নীতির অজুহাত খাড়া করে এখানে মনরেগার কাজ ও টাকা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। তার ফলে লক্ষ লক্ষ কর্মদিবস বানচাল হয়ে গিয়েছে। এই ভয়াবহ গরিব মারা নীতি আর বরদাস্ত করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, আগেই বাংলার মানুষের দাবিতেই সিলমোহর পড়েছে। এবার অন্তত মোদি সরকারের বিবেক জাগ্রত হওয়া দরকার। বাংলায় যাতে অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজ শুরু হতে পারে তার জন্য আন্তরিক উদ্যোগ নিক তারা। গতমাসেই এই দাবি জোরদার হয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকার তোয়াক্কা করেনি। তারা যেন কোর্টের আরও তিরস্কার ভর্ৎসনা আর তৃণমূলের রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করছিল।


