Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মশা চিনবেন কীভাবে?

ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া- বর্ষা মানেই দুই মশাবাহিত রোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। চিনে নেওয়া যাক, দুই রোগের বাহক মশাদের স্বভাব-চরিত্র-আকৃতি। পরামর্শে স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের পতঙ্গবিদ্যার প্রাক্তন প্রধান ডাঃ হিরন্ময় মুখোপাধ্যায়।

ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মশা  চিনবেন কীভাবে?
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া- বর্ষা মানেই দুই মশাবাহিত রোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। চিনে নেওয়া যাক, দুই রোগের বাহক মশাদের স্বভাব-চরিত্র-আকৃতি। পরামর্শে স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের পতঙ্গবিদ্যার  প্রাক্তন প্রধান ডাঃ হিরন্ময় মুখোপাধ্যায়

Advertisement

> এডিস, অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশার আচরণগত কী কী পার্থক্য?
>> তিন প্রজাতির মশার জীবনধারা ও রোগ ছড়ানোর ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। এডিস মশা মূলত ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার বাহক। অত্যন্ত চালাক। মূলত দিনের আলোয়, বিশেষত সূর্যোদয়ের পর ও সূর্যাস্তের আগে কামড়ায়। বেশি উঁচুতে উড়তে পারে না বলে পা বা কোমরের নীচে বেশি কামড়ায়। এডিস ‘ট্রান্স-ওভারিয়ান ট্রান্সমিশন’ ঘটাতে পারে বলেও কুখ্যাত। এটি এমন একটি বিশেষ জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি ডেঙ্গু বা জিকা ভাইরাস আক্রান্ত মা মশা তার ডিমের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের মশার শরীরে সরাসরি ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেয়। সহজ কথায়, একটি সুস্থ মশা কোনো ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ালে মশাটির শরীরে ভাইরাস ঢোকে। কিন্তু ট্রান্স-ওভারিয়ান প্রক্রিয়ার কারণে, ভাইরাসবাহী মা মশার ডিম থেকে যে নতুন লার্ভা এবং পরবর্তীতে নতুন মশা জন্মায়, তারা জন্মগতভাবেই ডেঙ্গুর জীবাণু নিয়েই জন্মায়। ফলে নতুন মশাগুলি কোনো ডেঙ্গু রোগীকে না কামড়েও, তার জীবনের প্রথম কামড়েই একজন সুস্থ মানুষকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত করতে পারে। এজন্য কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী না থাকলেও, শুধু আগের বছরের বেঁচে থাকা ডিম থেকেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হতে পারে।
ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা সম্পূর্ণ নিশাচর। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সক্রিয়। চিহ্নিত করার বড়ো উপায় হলো বসার ভঙ্গি। বসার সময় লেজের অংশটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে ওপরের দিকে তুলে রাখে। আর ফাইলেরিয়া ও এনসেফেলাইটিসের বাহক কিউলেক্স মশা রাতের অন্ধকারে ড্রেন বা নোংরা আবর্জনার আশপাশে বেশি থাকে। সূর্যাস্তের পর এবং রাতের অন্ধকারে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হয়। ঘরের কোণে, খাটের নীচে বা ঝুলন্ত কাপড়ের পিছনেও এরা লুকিয়ে থাকে।
> ডিম পাড়ার জায়গার তফাত আছে?
>> হ্যাঁ! এডিস শহুরে মশা। ঘরের ভিতরের বা বারান্দায় থাকা স্থির জলে (যেমন—ফুলের টব, এসি-ফ্রিজের ট্রে ইত্যাদি) ডিম পাড়ে। ডিমগুলি জল ছাড়াও শুষ্ক অবস্থায় প্রায় এক বছর বেঁচে থাকতে পারে। উল্টোদিকে, অ্যানোফিলিস মশা প্রাকৃতিক পরিষ্কার জল পছন্দ করে। যেমন, ধানজমি বা ঝোরা। কিউলেক্স মশাও আদ্যোপান্ত শহুরে। প্রজননের জন্য বাছে শহরের নোংরা, পচা ডোবা, ও জৈব বর্জ্য সমৃদ্ধ নর্দমা বা সেপটিক ট্যাংক।
> সাধারণ মানুষের করণীয় কী?
>> ১. মশার লার্ভা ধ্বংস করা। ২. প্রতি ৩ দিনে একবার ঘরের সমস্ত জমা জল ফেলে দিতে হবে। ৩. মশারির বিকল্প নেই। অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স রাতে কামড়ায়। ৪. লার্ভিসাইড স্প্রে ও বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলেও রোগগুলির প্রকোপ অনেকটা কমানো সম্ভব।
লিখেছেন নীতীশ চক্রবর্তী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ