বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তকরণ সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধনী আনল কেন্দ্র। প্রকাশিত হয়েছে গেজেট। তাতে সাফ বলা হয়েছে, হাসপাতালের বাইরে কোনো রোগী মারা গেলে সেই মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার থাকবে ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা আয়ুষ ডিগ্রি থাকা চিকিৎসকদের। যার আক্ষরিক অর্থ হল এমবিবিএস, বিএইচএমএস, বিইউএমএস প্রভৃতি ডিগ্রির চিকিৎসক। আবার এমনও মনে হতে পারে যে অ্যালোপ্যাথিক বা ইন্ডিয়ান সিস্টেম অব মেডিসিন ও হোমিয়োপ্যাথিক বিভিন্ন কাউন্সিলের নথিভুক্ত যে কোনো ডিগ্রির অধিকারীকেই বলা হয়েছে।
আর এনিয়েই নির্দেশিকা প্রকাশের পর শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি অ্যালোপ্যাথি, হোমিয়োপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ইউনানি প্রভৃতি কাউন্সিলে নথিভুক্ত ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা আর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না? এসব কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত ডিপ্লোমা চিকিৎসকের সংখ্যা খুব কম নয়। সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৭ হাজার নথিভুক্ত ডিপ্লোমা চিকিৎসক (ডিএমএস, ডিএইচএমএস, ডিপএনআইএইচ প্রভৃতি) রয়েছেন হোমিয়োপ্যাথির রাজ্য কাউন্সিল ‘কাউন্সিল অব হোমিয়োপ্যাথিক মেডিসিন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এ। তারপরই আসবে মডার্ন মেডিসিন বা অ্যালোপ্যাথি। অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের কাউন্সিলেও বিভিন্ন সময়ে নথিভুক্ত প্রায় ৫ হাজার ডিপ্লোমা অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক (ডিপ্লোমা ইন কনডেন্সড মেডিকেল কোর্স) আছেন। সামান্য কিছু ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক আছেন আয়ুর্বেদ এবং ইউনানি কাউন্সিলেও। নয়া নির্দেশের ফলে তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র জারি করবার এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আর অনুমান বা আশঙ্কাতেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফোনের বন্য বয়ে যাচ্ছে হোমিয়োপ্যাথিক কাউন্সিলে। ই-মেলেও প্রচুর অভিযোগ জমা পড়ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকের সই দেখে সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে শেষকৃত্য পর্যন্ত। শেষমেশ কাউন্সিলে ফোন করে কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর সৎকারের অনুমতি মিলছে! ফোন আসছে হোমিয়োপ্যাথদের শীর্ষ সংগঠন ‘হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’র (হোমাই) কর্তাদের কাছেও। এদিকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের জারি করা জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র গ্রাহ্য করছেন না বহু পঞ্চায়েত সচিব। এমন অভিযোগও আসতে শুরু করেছে আয়ুর্বেদিক কাউন্সিলে। রাজ্য হোমিয়োপ্যাথিক কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডাঃ মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘শ্মশান থেকেও ফোন পাচ্ছি। বলছেন, ডিপ্লোমা চিকিৎসকের ডেথ সার্টিফিকেট ওরা গ্রাহ্য করবেন না। অথচ তাঁরা আমাদের কাউন্সিলে নথিভুক্ত। চিকিৎসকের পক্ষে অসম্মানের। মৃতের পরিবারের পক্ষে ভোগান্তির। অসংখ্য লিখিত অভিযোগ ও মেল এসেছে। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে করণীয় কী, জানতে চাইছি।’ পশ্চিমবঙ্গ আয়ুর্বেদ পরিষদের রেজিস্ট্রার ডাঃ বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘বহু পঞ্চায়েত সচিব আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের দেওয়া জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র মানছেন না। এটা করা যায় না। ১৯৬১ সালের আইন আছে। আমরা জেলাশাসকদের চিঠি পাঠাচ্ছি।’