নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক’দিন পরই পরিবারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। তার জন্য ব্যাঙ্কের লকার থেকে সব গয়না বাড়িতে এনে রাখা হয়েছিল। নেকলেস পালিশ ও টারসেল বদলানোর জন্য চলতি সপ্তাহেই সেগুলি গয়নার দোকানে দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ঘটে যায় বিপত্তি। আলমারিতে থাকা ৯৮ লক্ষ টাকার সোনা ও হীরের গয়না নিয়ে উধাও হল চোরেরা। উল্টোডাঙা থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দুঃসাহসিক চুরির তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু প্রশ্ন হল, ব্যাঙ্কের লকার থেকে সব গয়না যে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে, এই খবর কি আগে থেকেই ছিল দুষ্কৃতীদের কাছে? তা না হলে এত নিখুঁত অপারেশন কীভাবে সম্ভব? আপাতত এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিস।
সূত্রের খবর, উল্টোডাঙার বাজাজ পরিবারের সদস্যরাই দাবি করেছেন, মূল্যবান হীরে ও সোনার গয়না বাড়িতে রাখা হয় না। গৃহকর্তা শুভমের বিয়ের পর থেকেই যাবতীয় মূল্যবান অলঙ্কার ব্যাঙ্কের লকারে সুরক্ষিত রাখে এই ব্যবসায়ী পরিবার। তাহলে প্রায় কোটি টাকার গয়না ও নগদ হঠাৎ বাড়িতে আনা হল কেন? তাও আবার একসঙ্গে একই আলমারিতে এবং বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের ঘরে। জবাবে বাজাজ পরিবার পুলিসকে জানিয়েছে, কিছুদিনের মধ্যেই তাদের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে শুভম, তাঁর স্ত্রী ও বাবা, মা সবারই যোগ দেওয়ার কথা। তার জন্যই মা ও স্ত্রীর গয়না পালিশ করানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। দোকানে তা নিয়ে কথাবার্তাও বলা হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় রবিবার রাতে ঠাকুরঘরের জানালার গ্রিল খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। ঘর লণ্ডভণ্ড না করে সরাসরি শুভমের বয়স্ক বাবা-মার ঘরে ঢুকে চোর। আলমারি খুলে যাবতীয় গয়না বার করে ঠাকুরঘরে বসেই চলে ভাগ- বাঁটোয়ারা। তারপর ওই জানালা দিয়েই চম্পট দেয় তারা।
পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ও চুরির পদ্ধতি দেখে পুলিশের অনুমান, গোটা বিষয়টি হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে। কোন দিক দিয়ে ঘরে ঢুকতে হবে, কোথায় গয়না রাখা আছে, কবে তা বাড়িতে এসেছে—সবটাই সম্ভবত দুষ্কৃতীদের নখদর্পণে ছিল। তাই ভোররাতে নিঃশব্দ অপারেশনে কিছুই টের পাননি পরিবারের সদস্যরা। ব্যাঙ্কের লকার থেকে গয়না যে বাড়িতে আনা হয়েছে, তা কার কার পক্ষে জানা সম্ভব? তদন্তকারীরা তাদেরকেই সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে রাখছেন। বাড়ির পরিচারক-পরিচারিকাদের তালিকা তৈরি করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিস। যদিও এই ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ বেপাত্তা—তেমন খবরও পাওয়া যায়নি। তাই তদন্তকারীরা কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখছেন না। দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ব্যাঙ্কের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যে দোকানে সমস্ত গয়না পালিশ ও টারসেল বদলানোর জন্য বাজাজ পরিবার কথা বলেছিল, সেই দোকানের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।