Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কীভাবে এল কন্ট্যাক্ট লেন্স

‘কাজল কালো’ চোখ ঢেকে যায় চশমার আড়ালে। তা কি মেনে নেওয়া যায়! তার চেয়ে লেন্সই ভালো। এই ভাবনা থেকেই হু হু করে বেড়েছে লেন্সের চাহিদা।

কীভাবে এল  কন্ট্যাক্ট লেন্স
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

‘কাজল কালো’ চোখ ঢেকে যায় চশমার আড়ালে। তা কি মেনে নেওয়া যায়! তার চেয়ে লেন্সই ভালো। এই ভাবনা থেকেই হু হু করে বেড়েছে লেন্সের চাহিদা। কারও কাছে চশমার পরিবর্ত, কারও কাছে চোখের মণির রং বদলাতে ভরসার নাম লেন্স। যুগোপযোগী লেন্স এখন ট্রেন্ডে। জানলে অবাক হবেন, আধুনিক এই যন্ত্রের ধারণা এসেছিল ১৫০৮ সালে! লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির হাত ধরে। একদম ঠিক পড়ছেন, ‘মোনালিসা’ খ্যাত শিল্পীই প্রথম ধারণা দিয়েছিলেন কন্ট্যাক্ট লেন্সের। কীভাবে? আসলে তিনি দেখিয়েছিলেন দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের জন্য সরাসরি চোখের উপর কোনো স্বচ্ছ পদার্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কেচের মাধ্যমে সেই ধারণা উপস্থাপনও করেন তিনি। তাঁর চিন্তাভাবনাই পরবর্তীতে কন্ট্যাক্ট লেন্স আবিষ্কারের ভিত গড়ে দেয়। এরপর ১৬৩৬ সালে রেনে ডেসকার্টেস কন্ট্যাক্ট লেন্সের ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। যদিও তাঁর পরিকল্পিত যন্ত্রটি পরলে চোখ বন্ধ করা সম্ভব হতো না।  ১৮২৭ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার জন হার্শেল প্রস্তাব দেন, চোখের আকার অনুযায়ী ছাঁচ তৈরি করে দৃষ্টিশক্তি ঠিক করা যেতে পারে। কন্ট্যাক্ট লেন্সের বাস্তব ব্যবহারযোগ্য রূপ প্রথম দেখা যায় ১৮৮৭ সালে। এই সময় জার্মান গবেষক আডল্ফ গ্যাস্টন ইউজেন ফিক, আগস্ট মুলার ও এডোয়ার্ড কাল্ট লেন্স তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ফিক ১৮৮৮ সালে যে লেন্সটি তৈরি করেন, তা ছিল ভারী বাদামি কাঁচের তৈরি। পুরো চোখের সামনের অংশ ঢেকে রাখত। এটি কর্নিয়ার উপর নয় বরং আশেপাশের টিস্যুর উপর বসাতে হতো। এই লেন্স কয়েক ঘণ্টার বেশি পরা যেত না। অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল। তবে এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম সফল, পরিধানযোগ্য কন্ট্যাক্ট লেন্স।

Advertisement

১৯৩৬ সালে অপটোমেট্রিস্ট উইলিয়াম ফেনব্লুম নতুন ধরনের লেন্স তৈরি করলেন। উপাদান হিসাবে ব্যবহার করলেন কাঁচ ও প্লাস্টিকের সংমিশ্রণ। আগের তুলনায় হালকা ও আরামদায়ক লেন্স তৈরি হল। এটি কন্ট্যাক্ট লেন্স প্রযুক্তিতে একটি বড়ো মোড়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কেভিন টুওহি প্রথম সম্পূর্ণ প্লাস্টিক কর্নিয়াল লেন্স তৈরি করেন। এই লেন্স আগের তুলনায় অনেক ছোটো ও সরাসরি কর্নিয়ার উপর বসানো যেত। এর ফলে ব্যবহারকারীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। এই লেন্সের উপাদান ছিল পলিমেথিমেথাক্রাইলেট পলি মিথাইল মেথাক্রাইলেট। অক্সিজেন যাতায়াত করতে না পারলেও এই লেন্স ছিল অনেক হালকা। ১৯৫০ ও ’৬০-এর দশকে কন্ট্যক্ট লেন্সের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানী ওটো উইচেটারলে হাইড্রোজেল নামক এক বিশেষ পদার্থ ব্যবহার করে প্রথম সফট কন্ট্যাক্ট লেন্স উদ্ভাবন করেন। এই উপাদান জল শোষণ করতে পারত ও নরম, নমনীয় ছিল। ফলে চোখে আরামদায়কভাবে বসানো সম্ভব হতো। তাঁর উদ্ভাবন পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে কন্ট্যাক্ট লেন্স গবেষণায় বিপ্লব ঘটায়। ১৯৭১ সালে আমেরিকায় প্রথম বাণিজি্যকভাবে সফট কন্ট্যাক্ট লেন্স বাজারে আসে। তারপর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কন্টাক্ট লেন্স দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি সিনেমার পর্দায় নায়িকারা ব্যবহার করতে শুরু করেন এই লেন্স। ফলে চশমার বিকল্প হিসাবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করে। ১৯৮৭ সালে ডিসপোজেবল বা স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য লেন্স বাজারে আসে। এতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয় ও সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যায়। তারপর দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ব্যবহারের রিপ্লেসমেন্ট লেন্সও জনপ্রিয় হয়। শান্তনু দত্ত

সম্পর্কিত সংবাদ