‘কাজল কালো’ চোখ ঢেকে যায় চশমার আড়ালে। তা কি মেনে নেওয়া যায়! তার চেয়ে লেন্সই ভালো। এই ভাবনা থেকেই হু হু করে বেড়েছে লেন্সের চাহিদা। কারও কাছে চশমার পরিবর্ত, কারও কাছে চোখের মণির রং বদলাতে ভরসার নাম লেন্স। যুগোপযোগী লেন্স এখন ট্রেন্ডে। জানলে অবাক হবেন, আধুনিক এই যন্ত্রের ধারণা এসেছিল ১৫০৮ সালে! লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির হাত ধরে। একদম ঠিক পড়ছেন, ‘মোনালিসা’ খ্যাত শিল্পীই প্রথম ধারণা দিয়েছিলেন কন্ট্যাক্ট লেন্সের। কীভাবে? আসলে তিনি দেখিয়েছিলেন দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের জন্য সরাসরি চোখের উপর কোনো স্বচ্ছ পদার্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কেচের মাধ্যমে সেই ধারণা উপস্থাপনও করেন তিনি। তাঁর চিন্তাভাবনাই পরবর্তীতে কন্ট্যাক্ট লেন্স আবিষ্কারের ভিত গড়ে দেয়। এরপর ১৬৩৬ সালে রেনে ডেসকার্টেস কন্ট্যাক্ট লেন্সের ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। যদিও তাঁর পরিকল্পিত যন্ত্রটি পরলে চোখ বন্ধ করা সম্ভব হতো না। ১৮২৭ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার জন হার্শেল প্রস্তাব দেন, চোখের আকার অনুযায়ী ছাঁচ তৈরি করে দৃষ্টিশক্তি ঠিক করা যেতে পারে। কন্ট্যাক্ট লেন্সের বাস্তব ব্যবহারযোগ্য রূপ প্রথম দেখা যায় ১৮৮৭ সালে। এই সময় জার্মান গবেষক আডল্ফ গ্যাস্টন ইউজেন ফিক, আগস্ট মুলার ও এডোয়ার্ড কাল্ট লেন্স তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ফিক ১৮৮৮ সালে যে লেন্সটি তৈরি করেন, তা ছিল ভারী বাদামি কাঁচের তৈরি। পুরো চোখের সামনের অংশ ঢেকে রাখত। এটি কর্নিয়ার উপর নয় বরং আশেপাশের টিস্যুর উপর বসাতে হতো। এই লেন্স কয়েক ঘণ্টার বেশি পরা যেত না। অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল। তবে এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম সফল, পরিধানযোগ্য কন্ট্যাক্ট লেন্স।



