Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

নব্বইয়েও নীরোগ থাকবেন কীভাবে?

ছোট থেকেই পরিমিত খাই। আগে নিয়মিত আমিষ খাওয়ার অভ্যেস থাকলেও দীর্ঘদিন হল সপ্তাহে দু’দিন নিরামিষ খাই। খাবারদাবার নিয়ে সেভাবে কোনও আলাদা লোভ নেই।

নব্বইয়েও নীরোগ থাকবেন কীভাবে?
  • ৮ মে, ২০২৫ ১৮:০৫
Prefer us on Google

তিনি ৯০ ছুঁইছুঁই। তাও পুরোদমে রোগী দেখেন। রোগব্যাধিও বিশেষ নেই। কোন মন্ত্রবলে এতটা তরতাজা? জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়

Advertisement

ছোট থেকেই পরিমিত খাই। আগে নিয়মিত আমিষ খাওয়ার অভ্যেস থাকলেও দীর্ঘদিন হল সপ্তাহে দু’দিন নিরামিষ খাই। খাবারদাবার নিয়ে সেভাবে কোনও আলাদা লোভ নেই। মাছ, ভাত, ডাল, তরকারিতেই সন্তুষ্ট। রোজ বিরিয়ানি খাই না! সপ্তাহান্তে বাড়ির বাইরে থেকে খাবার এনে খাচ্ছি, তাও নয়। ফাস্টফুডও খাই না। 

ভাজাভুজির প্রতি কোনওদিনই আকর্ষণ ছিল না। বাড়িতে ফিশ ফ্রাই, বেগুন ভাজা খাই। 

আমার জুত করে খাবার খাওয়ার সময় কোথায়? তাই এমনিতেই খাবারের পরিমাণ কমে যায়। আগেও এই চিকিত্সা পেশায় থাকার কারণে দীর্ঘসময় না খেয়েই রোগী দেখতে হতো। 

একটা সময় বাঁকুড়া জেলায় পোস্টিং ছিল। রাত এগারোটা-বারোটা পর্যন্ত রোগী দেখতে হতো। খিদে পেলেও নিজেকে বোঝাতে হতো, পাক খিদে, আর একটু পরেই খাব...। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাটাও শেখা দরকার। 

মোটামুটি পাঁচবার খাই। মূল মিল তিনবেলা। ব্রেকফাস্ট। লাঞ্চ ও ডিনার। ব্রেকফাস্ট এবং লা়ঞ্চের মাঝে একবার ফল দিয়ে টিফিন সারি এবং লাঞ্চ ও ডিনারের মাঝে হালকা কিছু খাই।  

ব্রেকফাস্ট: কোনওদিন খাই চিঁড়ে দই। কোনওদিন টোস্ট, অমলেট। কোনও কোনওদিন কর্নফ্লেক্স।

ব্রেকফাস্ট এবং লা়ঞ্চের মাঝে: পাঁচরকম ফল খাই এই সময়ে।

লাঞ্চ: একটু দেরি হয় দুপুরের খাবার খেতে। দুপুরে খাই মাছ, ভাত, ডাল, তরকারি। শেষপাতে দই মাস্ট। ও হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে চিকেন খাই। শাক খেতেও পছন্দ করি। পালং, পুঁই খেতে ভালো লাগে। সজনে ডাঁটাও খুব পছন্দের। লাঞ্চে পোস্ত আর বিউলির ডাল হলে আর কিছু লাগে না। 

লাঞ্চ আর ডিনারের মাঝখানে: চা খেতে ভালোবাসি। চা আর বিস্কুট খাই। কখনওসখনও ভেজ পকোড়া খাই।

রাতে: ডিনার করতেও অনেকটা দেরি হয়ে যায়। রোগ দেখতে হয়। তারপর পড়াশোনা করি। জার্নাল পড়ি। তা করতে করতে রাত তিনটে চারটে বেজে যায়। খুব পরিমিত খাই ডিনারে। রাতে একটু ভাত বা রুটি, তরকারি ও সব্জি খাই। রাতে অবশ্যই নিরামিষ খাই। 

খেতে ভালো লাগে

ছোটবেলায় বাবা রবিবার হলেই জিলিপি আনত। জিলিপি খুব ভালো লাগত। আর খেতাম মরশুমে ইলিশ মাছ। এখন আম খেতে খুব ভালো লাগে। 

আমার ডায়াবেটিস নেই। তাই খেলে সমস্যাও নেই। সবচাইতে বেশি ভালোবাসি ফল খেতে। আমি রোজ পাঁচ রকমের ফল খাই। 

বিলাসিতা

গরম ভাতে একটু ঘি। ওইটুকুই আমার খাবারের বিলাসিতা।

অনিয়ম

নিমন্ত্রণ বাড়িতে গেলে বা বাইরে বেড়াতে গেল একটু অনিয়ম হয় বটে। একটু পোলাও বা মশলাদার খাওয়া হয়ে যায়। তবে তাও খাই খুব পরিমিত মাত্রায়।

অবসরের শখ

অবসরে স্বামী রঙ্গনাথনজির বই পড়ি। ভালোবাসি মেডিক্যাল জার্নাল পড়তে। প্রায় ৯০ বছর বয়সে এখনও রোগী দেখি। 

শরীরে মেজর সমস্যা কিছু নেই। হাঁটুতে একটু ব্যথা হয়। 

শ্রবণ ক্ষমতা সামান্য কমেছে হয়তো। ব্লাড প্রেশার আছে, তবে নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত ওষুধ খাই। আর কোলেস্টরলের ওষুধ খাই। এই নিয়েই ভালো আছি। রোজ একটু বেশি সময় নিয়ে আহ্নিক করি। ভালো লাগে। 

বদভ্যাস

আমি কলকাতার একাধিক পাঁচতারা বড়  ক্লাবের মেম্বার। অথচ কোনওদিন সেখানে ড্রিঙ্ক করতে যাইনি। ধূমপানও করি না। 

একটা গল্প বলি। মেডিক্যাল কলেজে ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিয়েছি। তারপর বম্বে যাব বেড়াতে। আমি, ডাঃ জয়ন্ত সেন এমন আট-দশজন হবে দলে। পকেটে অত পয়সা নেই। থার্ড ক্লাসের টিকিট কেটেছি। শখ করে কয়েকটা দামি সিগারেট কেনা হল। আমরা সিগারেট খেলামও বেশ কয়েকটা। সেই প্রথম। কিন্তু একটুও ভালো লাগেনি সিগারেট খেতে। আর নেশাও হয়নি।

অনুলিখন: সুপ্রিয় নায়েক

সম্পর্কিত সংবাদ