নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আইনসভায় পাশ হওয়া বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার এব্যাপারে প্রশ্ন তুললেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৩৬১ অনুচ্ছেদে যেখানে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল এবং রাজপ্রমুখদের কোনও কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না বলে স্পষ্ট বলা আছে, সেখানে কেন সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ? বিধানসভা বা সংসদে পাশ হওয়া বিলে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি সই করবেন কি না, কখন করবেন, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আদৌ কোনও প্রশ্ন তুলতে পারে কি? তাছাড়া কোনও আইন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যেখানে সংবিধান বিশ্লেষণ করে নির্দেশের প্রসঙ্গ জড়িত, সেখানে কমপক্ষে পাঁচজন বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চই কি আবশ্যিক নয়? রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া কি বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল আদৌ আইনে পরিণত হতে পারে? এধরনের ১৪ দফা প্রশ্ন তুলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে চাপের মুখে ফেললেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
আর বেনজির এই পত্রাঘাতে সরকার এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। ১৩ তারিখ ওই চিঠি লেখা হলেও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে তা পৌঁছেছে ১৪ মে বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে। পাঁচপাতার এই চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে বৃহস্পতিবার।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক বিল রাজ্যপাল আর এন রবির আটকে রাখার অভিযোগ থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিলগুলিতে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেন রাজ্যপাল। কিন্তু সেখানেও সম্মতি বা অসম্মতি, কোনও কিছুই না আসায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার। গত এপ্রিল মাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যপালের আচরণকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। বলা হয়, কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও কাজ না করলে আদালত হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে না। সেই সূত্রেই রাষ্ট্রপতিকেও যে কোনও বিল নিয়ে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলে সুপ্রিম কোর্ট।
ঘটনা তামিলনাড়ু বিষয়ক হলেও বিষয়টিতে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের রাজ্যগুলি অক্সিজেন পায়। কারণ, একইভাবে আর জি কাণ্ডের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে পাশ হওয়া ‘দ্য অপরাজিতা উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড (ওয়েস্টবেঙ্গল ক্রিমিনাল ল’জ অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৪’ রাজ্যপালের হাত ঘুরে পড়ে রয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। তৃণমূল সাংসদ প্রতিনিধিদল দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিলটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের অনুরোধ করলেও কোনও ফলাফল জানা যায়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতিকে সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু এখন রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পাল্টা প্রশ্ন
তুলে চিঠি দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন আরও জোরদার হল বলে মনে করা হচ্ছে। - ফাইল চিত্র