নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৮ আগস্ট, ২০২৪। ভয়াবহ রাত। পৌনে ১টা নাগাদ আর জি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের তিনতলায় উঠে সেমিনার রুমে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। দোষী সাব্যস্ত কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। সেখানেও উঠেছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—গভীর রাতে হাসপাতালের অন্দরে বহিরাগত ঢুকলো কীভাবে? একবছর পর ফের কলকাতার সরকারি হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনা। ভরদুপুরের ঝাঁ-চকচকে মাল্টিসুপার স্পেশালিটির পিজি হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ‘বহিরাগত নিষিদ্ধ’ জোনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। এবার অভিযুক্ত সরকারি হাসপাতালেরই প্রাক্তন এক কর্মী অমিত মল্লিক। বর্তমানে দালালচক্রের সদস্য।
আর জি করের পরও কী তাহলে হুঁশ ফিরল না? নিরাপত্তার অভাবেই ফের সরকারি হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনা? পিজির ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ধর্ষণের অভিযোগের পরই এই প্রশ্নগুলিই ঘুরপাক খাচ্ছে শহরের সেরা মাল্টিসুপার স্পেশালিটি সরকারি হাসপাতালের অন্দরমহলে। সৌজন্যে রোগী ও রোগীর পরিজনরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘আর জি করের ঘটনা না হয় রাতে হয়েছিল। পিজিতে তো ভরদুপুরে হাজার-হাজার ডাক্তার, রোগী, রোগীর পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতেই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেল। তাহলে নিরাপত্তা, পুলিশ বাড়িয়ে কী লাভ হল? মহিলাদের নিরাপত্তা তো সেই তলানিতেই।’
এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারের নিরাপত্তার ঘেরাটোপ অন্য বিভাগের থেকে অনেকটাই বেশি থাকে। মূল গেটে সর্বক্ষণের জন্য দু’জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্বে থাকেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বলছে, সেই গেট দিয়েই ঢুকেছে অমিত। সঙ্গে ছিল নাবালিকা। হাসপাতালের কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও, কেন অমিতকে কেউ আটকালো না? এই প্রশ্নই ঘুরছে তদন্তকারীদের মগজে। কিন্তু, দেখা গিয়েছে বহিরাগত অন্য কেউ, যেমন রোগীর পরিবারের সদস্যরা ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ঢুকতে গেলেই আটকে দিচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাহলে কি অমিত নিরাপত্তারক্ষীদের পরিচিত মুখ? ‘দালাল’ হলে সেই সম্ভাবনাই প্রবল মনে করছেন তদন্তকারীরা। নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে তদন্তের স্বার্থে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীদের জেরা করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এদিন ধর্ষণের খবর সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হতেই পিজি হাসপাতালের রোগীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘নারী নিরাপত্তা’। গাইনি বিভাগের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে আসা এক গৃহবধূ সুজাতা মণ্ডল বলেন, ‘মাসে দু’বার করে পিজিতে দেখাতে আসতে হয়। আমার সঙ্গেও মেয়ে আসে। ৯ বছর বয়স। এবার তো আমারই ভয় করছে। আমি ডাক্তার দেখাতে ঢুকলে ও বাইরে অপেক্ষা করে। কখন কী হবে! ভগবান জানে। পিজির মতো হাসপাতলেও যে ধর্ষণ হতে পারে, কল্পনাও করা যায় না।’ এ প্রসঙ্গে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ‘এধরনের কোনও ঘটনাকে বিন্দুমাত্র রেয়াত না করার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।’