প্রীতেশ বসু, কলকাতা: গ্রামীণ আবাস প্রকল্পের অযোগ্য উপভোক্তাদের থেকে টাকা ফেরানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিল নবান্ন। চলতি বছরেই অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের এই খাতে পাওয়া টাকা ফেরাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার বিরুদ্ধে এফআইআর করে আইনি পদক্ষেপ করবে প্রশাসন। রাজ্যের নতুন সরকার নথি ও তথ্য যাচাই করে জেনেছে, তৃণমূল সরকারের আমলে আবাস প্রকল্পে প্রায় ১২ হাজার অযোগ্য উপভোক্তার হাতে আর্থিক অনুদান পৌঁছেছিল। তাঁদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারে এবার কড়া সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য।
নবান্নের শীর্ষস্তর থেকে অযোগ্য উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতেই ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ এবং টাকা ফেরত না দিলে এফআইআর করার সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। ৪ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত দপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এই আবহে শীঘ্রই পঞ্চায়েত দপ্তর জেলায় জেলায় এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠাতে চলেছে বলে খবর।
কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার পর নিজস্ব কোষাগারের অর্থে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে মোট ৩০ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তা বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ লক্ষ উপভোক্তা দু’দফায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন আগের সরকারের আমলেই। বাকি ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তা প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে পাওয়ার পর বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদল ঘটে। নতুন সরকার প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনা’। ১০ লক্ষের বেশি উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ইতিমধ্যে দিয়েও দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার বাকি সাত লক্ষের বেশি উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে বলে ঠিক আছে। এই প্রকল্পে টাকা পাওয়ার যেসব মাপকাঠি রয়েছে, আগের সরকারের আমলে সেসবের তোয়াক্কা না করে প্রায় ১২ হাজার উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই টাকা ফেরত এলে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে ঢুকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সারতে ইতিমধ্যে পোর্টাল এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে ব্লক প্রশাসন সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে রসিদ ধরাবে। এরপর ট্রেজারি ফর্ম৭ পূরণ করে বিডিও-কে সেই টাকা জমা করতে হবে ‘ট্রেজারি লিংক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে’। ফর্মে বিডিও এবং উপভোক্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। উপভোক্তার স্বাক্ষর একান্তই সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক তাঁর হয়ে সই করতে পারবেন।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায়ও আগের সরকারের আমলে বাড়ি তৈরির আর্থিক সহায়তা পাওয়া অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীন ‘স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’ (সুডা) এই সমীক্ষা চালাচ্ছে। সমীক্ষা শেষ হলে একইভাবে শহরাঞ্চলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত, অন্যথায় এফআইআরের পথে হাঁটবে রাজ্য।



