সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এলাকায় কোনও দুর্গাপুজো হতো না। তাই মাটির হাঁড়িতে মুঠো মুঠো চাল জমিয়ে শুরু করা হয়েছিল দেবী আরাধনা। ৪৮বছর আগে বিষ্ণুপুরের দ্বারিকায় গৃহবধূরা এভাবেই দুর্গাপুজো আরম্ভ করেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে পুজোর বাজেট ও জৌলুস বেড়েছে। এখন স্থানীয় মন্দিরে সাবেকি প্রতিমায় পুজো হয়। মল্লরাজাদের দুর্গাপুজোর মতো এখানেও অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে তোপ দাগা হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দুঃস্থদের বস্ত্রদান করা হয়।
পুজো কমিটির সম্পাদক অজয় রায় বলেন, দ্বারিকা ও সংলগ্ন মথুরা গ্রামের প্রায় ৫০০পরিবার মিলে এই পুজো করেন। ষষ্ঠীর দিন দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। অষ্টমীতে এলাকার প্রায় পাঁচহাজার মানুষ পাত পেড়ে বসে প্রসাদ খান। আমাদের পুজোয় সম্প্রীতির ছবি দেখা যায়। গ্রামের হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন।
পুজো কমিটির সভাপতি সুজিত রায় বলেন, আগে মল্লরাজাদের তোপধ্বনি শুনে আমাদের তোপ দাগা হতো। নানা শব্দে এখন সেই আওয়াজ ঢাকা পড়ে যায়। তাই এখন ছাদে উঠে আকাশে রাজাদের কামানের ধোঁয়া দেখার পর আমাদের তোপ দাগা হয়।
পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, আগে আমাদের গ্রামের মানুষকে তিন কিমি দূরে দেউলি গ্রামে পুজো দেখতে যেতে হতো। ভালো রাস্তা না থাকায় মাঠের আল ধরে যেতাম।
সেজন্য গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগেই পুজো শুরু হয়। তখন অনেক পরিবারেই আর্থিক সঙ্কট ছিল। তাই এলাকার প্রত্যেক গৃহবধূ সারাবছর ধরে মাটির হাঁড়িতে মুঠো মুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন। সেই চাল বিক্রি করে পুজো হতো। পরবর্তীকালে এলাকার পুরুষ ও মহিলাদের সহযোগিতায় দুর্গাপুজো হয়ে আসছে।