নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঘরের ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বেরচ্ছিল। ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ হওয়ায় পুলিসে খবর দেন তাঁরা। রবিবার রাতে দরজা ভাঙতেই দেখা গেল ভয়ঙ্কর চিত্র। কম্বল চাপা অবস্থায় পড়ে রয়েছে গৃহবধূর পচাগলা দেহ। হাত ও মুখ অ্যাসিড জাতীয় কোনও পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বামী গা-ঢাকা দিলেও লাভ হয়নি। সোমবার সকালে স্বামী বিজু সাহাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এদিন ধৃতকে বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বারাসত শহরের অশ্বিনীপল্লি খালপাড় এলাকার এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম লক্ষ্মী মাহাত (৩৬)।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের অশ্বিনীপল্লি খালপাড় এলাকায় রঞ্জন বড়ালের বাড়ি। মাসখানেক আগে ওই বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিল বিজু সাহা। দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিজু পেশায় বাসচালক। কলকাতার মানিকতলায় তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান থাকেন। লক্ষ্মীর প্রথম পক্ষের এক ছেলে আছে। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি সংসার ছেড়েছিলেন।
বছর খানেক ধরে প্রেম করার পর তাঁরা বিয়ে করেন। প্রতিবেশী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজু অত্যধিক মদ্যপান করত। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে অশান্তি হতো। অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা এ নিয়ে বাড়ি মালিককে নালিশও করেছিলেন। সেকারণে এই দম্পতিকে বাড়ি ছাড়তে পর্যন্ত বলা হয়েছিল। শনিবার সকালে শেষবার হাতে কালো ব্যাগ নিয়ে বিজুকে ওই বাড়ি থেকে বেরতে দেখেছিলেন প্রতিবেশীরা। ওইদিন থেকে লক্ষ্মীদেবীকেও কেউ আর দেখতে পাননি। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই ওই ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিক সহ অন্যান্যদের বিষয়টি জানান। পরে বারাসত থানার পুলিস এসে ঘরের ভিতর থেকে কম্বল চাপা অবস্থায় গৃহবধূর দেহ উদ্ধার করে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের মোটিভ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দাম্পত্য কলহ, নাকি অন্য কোনও কারণে খুন, তা জানতে জেরা করা হচ্ছে। বাড়ির মালিক রঞ্জন মণ্ডল বলেন, ভাড়াটিয়ার পরিচয়পত্র জমা না রেখেই তাঁদের থাকতে দেওয়া ভুল হয়েছিল। ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো। এক মাসের মধ্যে তাঁদের অন্যত্র চলে যেতে বলেছিলাম। এরমধ্যে এমন ঘটনা ঘটবে কল্পনাও করিনি।