Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩ বছরের পরকীয়া, সম্পর্ক ছিন্ন করতেই গৃহবধূকে গুলি

হাতে ব্যাগ। পরনে সাদা কুর্তি-সালোয়ার। সাতসকালে দোকানে যাচ্ছিলেন গৃহবধূ। বাইকে চেপে তাঁর পিছু নিয়েছিলেন পাশের আবাসনের এক যুবক।

৩ বছরের পরকীয়া, সম্পর্ক ছিন্ন করতেই গৃহবধূকে গুলি
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে ব্যাগ। পরনে সাদা কুর্তি-সালোয়ার। সাতসকালে দোকানে যাচ্ছিলেন গৃহবধূ। বাইকে সঙ্গীকে নিয়ে তাঁর পিছু নিয়েছিলেন পাশের আবাসনের এক যুবক। কালো জ্যাকেট, মাথাতেও কালো হেলমেট। ফাঁকা রাস্তায় সুযোগ বুঝে পিছন থেকে চলল গুলি। সোজা পিঠে। আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মহিলা। রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। বাইক ছুটিয়ে অকুস্থল ছেড়ে গায়েব দুই দুষ্কৃতী। 

Advertisement

হরিদেবপুর থানা এলাকার সখেরবাজারের কালীপদ মুখার্জি রোড। সোমবার সকাল ছ’টা নাগাদ সেখানেই রাস্তায় শ্যুটআউট। গৃহবধূকে গুলি করে খুনের চেষ্টা হয়। পিঠের পাশে গুলি লাগায় একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে যান মৌসুমি হালদার। স্থানীয় একটি আবাসনের বাসিন্দা। বেহালার ম্যান্টনে একটি স্টেশনারি দোকান রয়েছে তাঁর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। জখম মহিলা এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন। তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এক অভিযুক্ত, বাবলু ঘোষকে চিহ্নিত করে পুলিশ। মৌসুমি পুলিশকে জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন ২১ বছরের পুত্র সন্তানের মা। তাতেই অশান্তির সূত্রপাত। আক্রোশের বশেই বাবলু গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা করেন। ঘটনার চারঘণ্টার মধ্যেই হেস্টিংস মোড়ে বাবলুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ, মঙ্গলবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। কিন্তু, কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করলেন বাবলু? তা নিয়ে ধন্দে ছিল পুলিশ। বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। বালিগঞ্জের ভাড়াবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁর পরিচিত বাপ্পা দাসকে। উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। জানা যায়, পেশায় গাড়িচালক বাপ্পাই গুলি চালিয়েছিল। দু’জনের যোগাযোগ বহু পুরোনো। বাপ্পার কাছে যে বন্দুক রয়েছে, সেকথা বাবলু জানত। টাকার বিনিময়ে সে বাপ্পাকে খুনের সুপারি দিয়েছিল। প্ল্যানমাফিক এদিন সকালে চলে অপারেশন।
মা সারদা অ্যাপার্টমেন্টের দোতলার ফ্ল্যাটে থাকেন মৌসুমি। অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। ছেলে বি টেক পড়ছে। স্বামী অসুস্থ, শয্যাশায়ী। পাশের আবাসনের বাসিন্দা বাবলুর স্ত্রী ন’বছর আগে মারা যান। তাঁর এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি হাওড়ায়। শেষ তিন বছর ধরে ‘অবৈধ সম্পর্কে’ লিপ্ত হয় যুগল। সূত্রের খবর, দু’জনে মন্দিরে বিয়েও সেরেছিলেন। এরপরেই স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে আসার জন্য মৌসুমিকে টোপ দিচ্ছিলেন বাবলু। পুলিশকে বাবলু জানিয়েছেন, তাতে রাজি হয়েছিল মৌসুমিও।
বাবলুর অভিযোগ, স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে আসার জন্য ৫১ হাজার টাকা নিয়েছিলেন মৌসুমি। মৃত স্ত্রীর প্রায় ৫ লক্ষ টাকার গয়নাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, এই দাবি সত্যি কি না, তা স্পষ্ট নয়। লালবাজার জানিয়েছে, মৌসুমির বয়ান রেকর্ড করা হবে। ধৃতের দাবি, সম্পর্ক থেকে বেরতে চাইলে মৌসুমির থেকে টাকা ও গয়না ফেরত চান তিনি। না দেওয়াতেই খুনের প্ল্যান। শ্যুটআউটের পর গাড়ি ভাড়া করে পাঁচলায় মেয়ের বাড়ি পালানোর সময় হেস্টিংস মোড়ে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ