সংবাদদাতা, ঘাটাল: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ, প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্বান্ত গৃহবধূ। সরকারি প্রকল্পের বকেয়া টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অভিনব আর্থিক প্রতারণার শিকার হলেন এক সাধারণ গৃহবধূ। অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনের টোপ দিয়ে এক লহমায় চন্দ্রকোণা থানার ভবানীপুরের বাসিন্দা রিঙ্কু মণ্ডল নামে ওই বধূর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দিল সাইবার প্রতারকরা। শনিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার জেরে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওই বধূর পরিবার। চোখের নিমেষে সর্বস্বান্ত হয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ রিঙ্কুদেবীর মোবাইলে একটি অজানা নম্বর থেকে আচমকাই ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে চন্দ্রকোণা-১ বিডিও অফিসের সরকারি আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। এরপর সে জানায়, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য অবিলম্বে উপভোক্তার ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ হবে। রিঙ্কুদেবী জানান, ওই ব্যক্তি তাঁকে এও স্মরণ করিয়ে দেয় তিনি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাননি। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হলেই দুই কিস্তির টাকা একসঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। সরকারি আধিকারিকের পরিচয় দেওয়ায় প্রথমটায় সন্দেহ হয়নি রিঙ্কুদেবীর। উলটে বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় তিনি ওই প্রতারকের পাতা ফাঁদে সহজেই পা দেন।
প্রতারক এরপর ওই বধূকে একটি স্ক্যানার পাঠিয়ে ইউপিআই-এর মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠাতে বলে। বিশ্বাস অর্জন করতে সে জানায়, এই টাকা কেবল ভেরিফিকেশনের জন্য নেওয়া হচ্ছে এবং কাজ মিটলেই তা অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হবে। সরল বিশ্বাসে রিঙ্কুদেবী তাঁর ফোনপে অ্যাপের মাধ্যমে ১,৬৬৮ টাকা ওই নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এই টাকা পাঠানোর পরেই প্রতারক ফের তাঁকে আরও কিছু টাকা পাঠাতে বলে। রিঙ্কুদেবী দ্বিতীয়বার টাকা পাঠাতে রাজি না হওয়ায় হঠাৎ করেই ফোন কেটে দেয় ওই প্রতারক। এরপর আর ওই নম্বরে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি।
রিঙ্কুদেবী জানান, কলটি কেটে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর হোয়াটসঅ্যাপও হ্যাক হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ বাদেই তিনি লক্ষ করেন যে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সব জমানো টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে এবং ব্যালেন্স শূন্য হয়ে গিয়েছে।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝে ওই গৃহবধূ স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশ সব ঘটনা শোনার পর তাঁকে সাইবার অপরাধ দমন দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সাধারণ মানুষকে এই ধরনের প্রতারণা নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। সরকারি আধিকারিক পরিচয়ে ফোনে অপরিচিত কাউকে নিজেদের ব্যাংকের গোপন তথ্য, পিন বা ওটিপি শেয়ার না করার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। অচেনা স্ক্যানারে ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রেও সতর্ক করা হয়েছে।