সংবাদদাতা, কাটোয়া: মোবাইলে মাত্র দু’মাসের আলাপ! সেখান থেকেই শুরু কেতুগ্রামের বধূর সঙ্গে প্রেমের নাটক। তারপর রবিবার ওই বধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে এনে অপহরণ করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। বীজপুর থানার নৈহাটি থেকে বধূ তাঁর স্বামীর মোবাইলে ‘বাঁচাও’ লিখে মেসেজ পাঠান। শেষে কেতুগ্রাম থানার পুলিস অপহৃত বধূকে সেখান থেকেই উদ্ধার করে। অভিযুক্ত যুবককেও গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম নবনারায়ণ মণ্ডল। তার বাড়ি কেতুগ্রাম থানার নিরোল গ্রামে। সোমবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, এদিন আদালতে বধূর গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার কেতুগ্রাম থানায় অপহরণের অভিযোগ জানান বধূর স্বামী। ওই বধূ শরীর খারাপ বলে কয়েকদিন আগে বাপেরবাড়ি মুরুন্দি গ্রামে যান। রবিবার সকালে সেখান থেকেই স্ত্রীর নিখোঁজের খবর পান স্বামী। এরপর এদিন দুপুর ১টার পর মোবাইলে স্ত্রীর মেসেজ পান। তাতে লেখা, ‘আমাকে বাঁচাও। আমি বাড়ি ফিরতে চাই। ওরা আমাকে রাতের মধ্যে অন্য জায়গায় নিয়ে চলে যাবে।’ অপহৃত বধূ স্বামীকে নিজের লোকেশনও পাঠান। তারপর স্বামী কেতুগ্রাম থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিস ওই বধূর মোবাইল লোকেশন দেখেই পাড়ি দেয় বীজপুর থানা এলাকায়। এরপর পুলিস ওই বধূকে বীজপুর থানার নৈহাটি এলাকায় একজনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। কেতুগ্রামের ওই বধূর সঙ্গে ধৃত যুবকের মাত্র দু’মাস আগে মোবাইলে আলাপ। প্রথমে তিনি ‘ভুল নম্বর’ বলে পাত্তা দেননি। তারপর সে ওই বধূকে বারবার ফোনে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ। শেষে ওই যুবকের পাতা প্রেমের ফাঁদে পা দেন বধূ। কথা বলতে বলতেই বধূকে নানা প্রলোভন দেখায় ধৃত। তারপরেই বধূকে ডেকে এনে অপহরণ করে বলে অভিযোগ। বধূর স্বামী বলেন, স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেটা আমাকে আমার শাশুড়ি ফোনে জানান। তারপর আমার স্ত্রী আমাকে মোবাইলে মেসেজ পাঠান। আমার স্ত্রীকে ছাড়ানোর জন্য মুক্তিপণ দাবি করেছিল। আমার স্ত্রীর সোনার গয়নাও নিয়ে নিয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নবনারায়ণ মণ্ডল ফেসবুক থেকে বিভিন্ন মহিলার সঙ্গে আলাপ জমাতো। তারপর তাঁদের নম্বর নিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এসব র্যাকেট চালাতো। কেতুগ্রামের বধূকে দীঘায় অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। কিন্তু ওই বধূ সেসব পরিকল্পনা শুনে ফেলায় রক্ষা পেয়ে যান।



