সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মাত্র ছ’ মাস হল বিয়ে হয়েছিল। সেই অর্থে এটাই ছিল প্রথম জামাইষষ্ঠী। রবিবার সেই উপলক্ষ্যে স্ত্রীকে নিয়ে উলুবেড়িয়ায় শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন স্বামী। সারাদিন আনন্দেই কেটেছে তাঁদের। রাত পোহাতে না পোহাতেই আনন্দের পরিবেশ বদলে গেল শোকে। সোমবার সাতসকালে বহুতল ওই ফ্ল্যাটবাড়ির উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন মেয়ে। মৃত গৃহবধূর নাম প্রীতি বাগ মজুমদার (২৪)। ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়া পুরসভার ২৮ নং ওয়ার্ডের লতিবপুরে। পুলিস মৃতদেহটি উদ্ধার করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। এর মধ্যেই এদিন ভোরে প্রীতির তৈরি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে এই মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সাতেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রীতির সঙ্গে বাগান্ডার বাসিন্দা ঋত্বিক মজুমদারের যোগাযোগ হয়। সেই সূত্রে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ডিসেম্বর মাসে ধূমধাম করে বিয়ে হয় দু’জনের। রবিবার জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে সকালেই ঋত্বিককে নিয়ে বাপের বাড়িতে আসেন প্রীতি। সারাদিন তাঁরা বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে গল্প-গুজব করে আনন্দেই কাটান। দুপুরে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন সবাই। বিকেলে ঋত্বিক বাড়ি চলে গেলেও প্রীতি থেকে যান বাপের বাড়িতে। প্রীতির মা পুতুল বাগ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, জামাইকে থেকে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে দিদি-জামাইবাবু এসেছেন বলে ঋত্বিক বাড়ি ফিরে যায়। এদিন সকালে প্রীতির ওই বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সে আর হল না। তাঁর কথায়, রবিবার রাতে আমরা মা-মেয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে অনেকক্ষণ গল্প করে শুতে যাই। আমার পাশেই শুয়ে ছিল ও। সকাল ৭টা নাগাদ ভারী কিছু পড়ার আওয়াজ শুনতে পাই। উঠে দেখি পাশে মেয়ে নেই। ততক্ষণে প্রতিবেশীদের চিৎকারে বাইরে এসে দেখি, প্রীতি নীচে পড়ে রয়েছে। বেরনোর সময় ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দিয়ে চাবিটা ভিতরে ছুড়ে দিয়ে গিয়েছে মেয়ে।
মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওকে মানসিক নির্যাতন করত। বাপের বাড়ি আসতে দিতে চাইত না। জামাইষষ্ঠীতে নিমন্ত্রণ করতে গেলে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ওদের না পাঠিয়ে উল্টে আমাদেরই ওই বাড়িতে গিয়ে আচার-অনুষ্ঠান করতে বলেছিল। যদিও শেষমেশ সেই আপত্তি ধোপে টেকেনি। দু’জনে একসঙ্গেই আমাদের বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু এটাই যে শেষ আসা হবে, তা একবারের জন্যও বুঝতে পারিনি। প্রীতির মামা সুবীর গুহ মজুমদারের কথায়, ছোট থেকেই মেয়েটা খুব চাপা স্বভাবের ছিল। বিয়ের পর ওর সংসারে যে অশান্তি চলছিল, তা আমাদের বুঝতে দেয়নি। নিজেই ভিতরে ভিতরে গুমড়ে মরছিল। হয়তো সেসব কারণেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রীতি।