সংবাদদাতা, বহরমপুর: গভীর রাতে মৃত গৃহবধূকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চম্পট দিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের বাপের বাড়ির লোকজন। তাঁদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। সোমবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিহরপাড়া থানার বাইপুরে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম নাজিরা সুলতানা (২৩)। ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে নাজিরার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি সহ চারজনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বাবা আসানুদ্দিন শেখ। হরিহরপাড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, তদন্তে নেমে মৃতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুল অভিযুক্ত ও তার ভাই পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
চার বছর আগে বলরামপুরের বাসিন্দা নাজিরা সুলতানার বিয়ে হয় আসাদুল মিঞার সঙ্গে। আসাদুল মিঞা স্থানীয় একটি মুদির দোকানে কাজ করে। দম্পতির এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নাজিরা নাইটি পরলেই মারধর করতেন তাঁর শাশুড়ি। ছেঁড়া কাপড় পরতে দেওয়া হতো তাঁকে। বাপের বাড়িতে ফোন করতে দেওয়া হতো না। কাজে ভুলত্রুটি ধরা পড়লেই চলত শারীরিক নির্যাতন। মৃতের মা রওশনারা বিবি বলেন, প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন করা হতো মেয়েকে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিয়ের এক বছর পর মেয়ে আমার বাড়িতে চলে আসে। আট মাস পর সালিশি সভা ডেকে মিটমাট করে। তারপরে আরও দু’ বার একই ঘটনা ঘটে। প্রতিবারই সালিশি সভা করে মেয়েকে নিয়ে যায় ওরা। কিন্তু অত্যাচার করা থামায়নি। সন্তানের কথা ভেবে সব মুখ বুজে সহ্য করেছে মেয়ে। তাকেই মেরে ফেলা হল। রওশনারা বিবি জানান, সোমবার রাত ১২টা নাগাদ জামাই ফোন করে জানায় নাজিরা বিষ খেয়েছে। পরিবারের লোকজন রাতেই ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়িতে কেউ নেই। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, মৃত অবস্থায় তাঁদের মেয়েকে ফেলে রেখে পালিয়েছে সবাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাত দেড়টা নাগাদ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাপের বাড়ির লোকজন ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে যান। আসানুদ্দিন শেখ বলেন, আমার মেয়ে শেষবার যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিল সব কষ্ট সহ্য করেই সংসার করব। বিএ পাশ মেয়ে। আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার বিশ্বাস ওকে সবাই মিলে খুন করেছে। আমি দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। আসাদুল মিঞা ও তার ভাই রাকিব মিঞা পলাতক।