Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরকীয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন, ট্রেন লাইনে বসে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর

পরকীয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন। তার জেরে ট্রেন লাইনে বসে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক গৃহবধূ। এদিকে, ট্রেন এসে গেল বলে! স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মহিলাকে লাইন থেকে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও নাছোড় তিনি।

পরকীয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন, ট্রেন লাইনে বসে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: পরকীয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন। তার জেরে ট্রেন লাইনে বসে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক গৃহবধূ। এদিকে, ট্রেন এসে গেল বলে! স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মহিলাকে লাইন থেকে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও নাছোড় তিনি। কিছুতেই সরবেন না। শেষমেশ ওই লোকজন একছুটে রেল গেটের সামনে চলে গিয়ে লাল গামছা উড়িয়ে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালের চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে থামিয়ে দেন ট্রেন। প্রাণে বেঁচে যান মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে বারুইপুরের বৈষ্ণবপাড়া সংলগ্ন ২ নম্বর রেল গেটের আগে। খবর পেয়ে বারুইপুর জিআরপির পুলিস কর্মীরা এসে মহিলাকে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে, প্রেমিকার আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে ততক্ষণে ওই এলাকায় চলে আসেন প্রেমিক। তাঁকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গৃহবধূকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং প্রেমিককে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

ওইদিন রাত ১০টা নাগাদ বারুইপুরের ২ নম্বর রেল গেটের কাছে রেললাইনে বছর চব্বিশের এক গৃহবধূকে বসে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা গৃহবধূকে লাইন থেকে সরে আসতে বললেও তিনি তা শোনেননি। একবার তুলে দিলেও তিনি সরে গিয়ে ফের লাইনে বসে পড়েন। মহিলা জানান, তিনি আত্মহত্যা করতে এসেছেন। সেই সময় আপ লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল রেলগেটের প্রায় কাছাকাছি এসে পড়েছে। শাসন স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ডাউন লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল। বাসিন্দারা বিপদের আশঙ্কা করে তড়িঘড়ি লাইন ধরে ছুটে ট্রেন চালকের উদেশ্যে চিৎকার করে হাত নাড়তে থাকেন। কেউ কেউ লাল গামছাও ওড়াতে থাকেন। কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পেরে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন চালক। এরপর ওই গৃহবধূকে জোর করে লাইন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল সাপুড়িয়া বলেন, আপ লাইনে ট্রেন আসছে দেখে আমরা ছুটে যাই গৃহবধূর প্রাণ বাঁচানোর জন্য। ট্রেন চালক আমাদের সংকেত বুঝতে পেরে ট্রেন থামিয়ে দেন। আরেক বাসিন্দা মোশারফ শেখ বলেন, চালক লাল গামছা দেখে ট্রেন থামিয়ে দেন। নাহলে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত। ওই গৃহবধূ জীবন ফিরে পাওয়ায় আমরা খুশি। বাসিন্দাদের সাহসিকতার তারিফ করেছে পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, ওই গৃহবধূর বাড়ি মল্লিকপুর। তিনি বিবাহিতা। তাঁর প্রেমিক থাকেন মথুরাপুরে। তাঁরও স্ত্রী রয়েছেন। তবে এই যুগল দু’বছর হল পরকীয়ার সম্পর্কে রয়েছেন। ওইদিন প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটি হওয়ায় রাগের বশেই গৃহবধূ আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ