সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর চুপিতে খাল বুজিয়ে চলছে বাড়ি, দোকানঘর তৈরি। পঞ্চায়েত অফিস থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে এইপ বেআইনি কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে বাসিন্দাদের একাংশ মঙ্গলবার কালনার মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। মহকুমা শাসকের কাছে এক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, পূর্বস্থলী-২ নম্বর ব্লকের চুপি মৌজায় একটি জল নিকাশি খাল রয়েছে। ভূমি সংস্কার দপ্তরের নথিতেও সেটি ‘খাল’ ও ‘সাধারণের ব্যবহার্য’ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। ওই খাল থেকে পূর্বস্থলী পঞ্চায়েত মাত্র দেড়শ মিটার দূরে। তারমধ্যেই রয়েছে কাষ্ঠশালী বাজার। ওই বাজারে গিয়ে চুপির দিকে যেতেই কাষ্ঠশালী রোডের উপর একটি কালর্ভাট রয়েছে। যার দু’ দিকেই নিকাশি খাল। খালটি প্রায় ৬ কিমি দীর্ঘ। অভিযোগ, সম্প্রতি ওই খাল বুজিয়েই বেআইনি ভাবে বাড়ি, দোকানঘর তৈরি হচ্ছে। তাতে বর্ষায় এলাকার বাসিন্দারা চরম বিপদের সন্মুখীন হবেন। জল বেরবে না। প্রশ্ন উঠছে, নাকের ডগায় এমনটা হচ্ছে অথচ পঞ্চায়েত কেন নিশ্চুপ। অভিযোগকারী বিশ্বনাথ দত্ত বলেন, দিনের পর দিন ওই জল নিকাশির খাল বুজিয়ে ঘরবাড়ি, দোকান এমনকী ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। আমি মহকুমা শাসককে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। তাছাড়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ‹জল ধরো জল ভরো› প্রকল্প করছেন, সেখানে এমন কাজ বেআইনি।
পূর্বস্থলী পঞ্চায়েতের প্রধান অনিন্দিতা রায় বলেন, আমি জানি না। জেনে বলতে পারব। এদিকে পূর্বস্থলীর উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমিও খোঁজ নেব। অভিযোগের সত্যতা থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক প্রদীপ সাহা বলেন, এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও বড় মাথা রয়েছে। না হলে খাল বুজিয়ে বাড়ি করার অনুমতি কীভাবে পাওয়া গেল। রাজ্যজুড়েই এখন কাজ হচ্ছে। নিশ্চয়ই মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে। মহকুমা শাসক তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক।
চুপি এলাকায় ছাড়ি গঙ্গায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে উত্তর এশিয়া, ইউরোপ, ক্যাস্পিয়ান সাগর, সাইবেরিয়া, তিব্বত প্রভৃতি দেশ থেকে আসে পরিযায়ী পাখি। মূলত নভেম্বর ডিসেম্বরেই বেশি আসে। পেরেগ্রিন ফ্যালকন গার্ডওয়াল, কুট, জ্যাকানা, বিভিন্ন প্রজাতির বালি ও ভূতি হাঁস সহ নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে এখানে। ২০১১ সালে চুপিতে পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায় এক কেন্দ্রীয় সংস্থা। পর্যটকদের জন্য চুপি, কাষ্ঠশালী, রাজার চর গ্রামগুলিতে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। সারা বছরেই এখানে পর্যটকরা আসেন। তাই পর্যটন কেন্দ্রের কাছে খাল বুজিয়ে বাড়িঘর তৈরিতে কারা মদত দিচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখার দাবি তুলছেন স্থানীয়রাই।



