Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অসুস্থ বা প্রবীণদের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনে বাড়ি বাড়ি কর্তারা

অসুস্থ বা প্রবীণদের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনে বাড়ি বাড়ি কর্তারা
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আবাস যোজনার দ্বিতীয় দফার টাকা পেতে গেলে করতেই হবে ‘ইউনিক ডকুমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ (ইউডিন) ভেরিফিকেশন। এই যাচাইয়ের কাজটি হবে ব্লক অফিসে অথবা পঞ্চায়েতে। কিন্তু বৃদ্ধ উপভক্তারা কী করবেন? বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরে পঞ্চায়েত অবধি বায়োমেট্রিক দিতে আসাও যে কষ্টের। বয়স্কদের সেই কষ্ট লাঘব করতে রানাঘাট ব্লক অফিস অশক্ত উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। 

Advertisement

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার যে আবাস যোজনার টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, তার দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি চলছে। রানাঘাট দুই ব্লকের অধীনস্থ ১৪টি পঞ্চায়েতের মধ্যে এরকম উপভোক্তার সংখ্যা ৪ হাজার ৩৯৬ জন। সময়মতো টাকা খরচ, আগের কিস্তিতে লিনটন পর্যন্ত তৈরি সহ সমস্ত শর্ত মানলে তৃতীয় দফাতেও পাবেন একই পরিমাণ টাকা। কিন্তু সেই টাকা ছাড়ার আগে রয়েছে প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। প্রথম কিস্তিতে পাওয়া টাকায় সত্যিই বাড়ি তৈরি হয়েছে কিনা তা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখবেন প্রশাসনিক কর্তারা। কাগজ কলম হাতে পৌঁছে যাবেন উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি। নির্মীয়মাণ সেই বাড়ির ছবি পোর্টালে আপলোড করলে তবেই ছাড়া হবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর উপভোক্তাদের মোবাইলে আসবে একটি এসএমএস। তাতেই থাকবে ‘ইউডিন’ অর্থাৎ ডকুমেন্ট যাচাইয়ের লিঙ্ক। পৃথক একটি অ্যাপের সাহায্যে তথ্য পর্যালোচনা এবং বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন হবে। ব্লক অথবা পঞ্চায়েত অফিসে এসে সেই কাজ করার কথা থাকলেও বৃদ্ধ উপভোক্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে রানাঘাট ২ ব্লক প্রশাসন। যেখানে বায়োমেট্রিক স্ক্যানার হাতে পৌঁছে যাচ্ছেন ব্লকের কর্তারাই। ১৪টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ২০০ জন এরকম অক্ষম উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ভেরিফিকেশন না হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তখনই বয়স জনিত কারণে অক্ষমতার বিষয়টি সামনে আসে। তার মধ্যেই অন্যতম বহিরগাছি পঞ্চায়েতের দলুয়াবাড়ির বাসিন্দা কমলা বেপারি। অশীতিপর সেই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করান। 
ব্লক প্রশাসনের তরফে রানাঘাট ২-এর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শুভজিৎ জানা বলেন, রাজ্য সরকার সমস্ত উপভোক্তার কাছেই দ্বিতীয় দফার টাকা পৌঁছে দিতে তৎপর। কিন্তু তার জন্য কিছু নিয়ম কানুন মানতে হচ্ছে। অনেকেই ভেরিফিকেশন করেননি এই বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর খোঁজখবর শুরু হয়। দেখা যায়, ২০০ জনের মতো বৃদ্ধ উপভোক্তা বয়সজনিত কারণে পঞ্চায়েত অফিস অথবা ব্লক অফিস পর্যন্ত আসতে পারছেন না। তাই আমরা আমাদের কর্মীদের সেই সমস্ত উপভোক্তাদের বাড়িতে পাঠানোর কাজ শুরু করেছি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগচ্ছে ভেরিফিকেশনের কাজ। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪০ জনের ইউডিন ভেরিফিকেশন হয়ে গিয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝির মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ