Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডবে ভাঙল বাড়ি, বরাতজোরে প্রাণে রক্ষা

ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডবে ভাঙল বাড়ি, বরাতজোরে প্রাণে রক্ষা
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডব অব্যাহত। বুধবার রাতে মানিকপাড়া রেঞ্জের কুমারী গ্ৰামে দলছুট একটি হাতি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। বাড়ির দেওয়ালের কিছুটা অংশ ধসে যায়। বরাতজোরে পরিবারের সদস্যরা রক্ষা পান। কলাইকুন্ডা রেঞ্জের ঢেঁকিপুরায় এলাকায় চারটি হাতি কয়েক বিঘা জমির ধান নষ্ট করেছে। বনবিভাগের এক রেঞ্জ থেকে অন্য রেঞ্জে হাতি ড্রাইভ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া রেঞ্জ এলাকায় হাতির তাণ্ডব নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমির ফসল খাওয়ার সঙ্গে দলছুট হাতি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। রাতেরবেলা বাড়িঘর ভাঙচুর চালাচ্ছে। হাতির পালের চেয়ে দলছুট হাতিদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হাতির পাল বড় দল থেকে এখন ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি বনবিভাগের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। কুমারী গ্ৰামের বাসিন্দা সুনীল মাহাত বলেন, রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ১২টা নাগাদ হাতি এসে হামলা চালায়। প্রথমে দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। তারপর মাটির দেওয়ালে ধাক্কা মারে। দেওয়ালের কিছুটা অংশ ধসে যায়। আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করি। গ্ৰামবাসীরাও বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করেন। এরপরেই হাতিটি পালিয়ে যায়। পুরো দেওয়াল ভেঙে পড়লে বাড়ির আমাদের প্রাণহানি হতে পারত। কলাইকুন্ডা রেঞ্জের এক অফিসার বলেন, এই রেঞ্জে একাধিক হাতির করিডর আছে। হাতির দল ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে খেত ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বনবিভাগ খবর পেলেই দলছুট হাতিকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষা আন্দোলনের কর্মী শ্যামসুন্দর মাহাত বলেন, এক রেঞ্জ থেকে অন্য রেঞ্জে পরিকল্পনা ছাড়াই হাতির পালের ড্রাইভ হচ্ছে। হাতির পাল খাবারের সন্ধানে গ্ৰামীণ এলাকায় ঢুকছে। একথা মাথায় রাখতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই ক্রমাগত ড্রাইভের হাত থেকে বাঁচতে হাতির পাল চেষ্টা করছে। এখন হাতি আখ, কাজুবাদাম খাচ্ছে। আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। হাতির জন্য সংরক্ষণ এলাকা গড়ে না তুললে এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, যাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে বা বাড়িঘর ভাঙচুর হচ্ছে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। গ্ৰামের বনরক্ষা কমিটির সদস্যদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ