নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নেই এফএসএসএআই অনুমোদিত ফুড সেফটি লাইসেন্স! কর ফাঁকি দিয়েই চলছে বহু হোটেল, রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকান। অভিযোগ, হকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটকে সামনে রেখে দেদার ব্যবসা চলছে। ঘটনায় বীরভূম জেলাজুড়ে প্রতি বছরই বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এবার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর আসরে নামল। জেলাজুড়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার কাজ শুরু হয়েছে। সতর্কবাণীতে কাজ না হলে আগামী দিনে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল বলেন, অভিযানে নজরে এসেছে ব্যবসায়ীরা হকার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকান চালাচ্ছেন। এটা আইন বহির্ভূত কাজ। এই ঘটনায় রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করছি। এরপরও ব্যবসায়ীরা সতর্ক না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানাও করা হতে পারে।
হোটেল রেস্তরাঁর খাবারে ভেজাল, গুণমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসতেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর অভিযানে নামে। জেলাজুড়ে অভিযানও শুরু হয়েছে। খাবারের গুণগত মান যাচাইয়ে গিয়েই আধিকারিকদের নজরে আসে, ব্যবসায়ীদের একাংশ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। বহুক্ষেত্রেই হোটেল, রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানে নামকেওয়াস্তে হকার লাইসেন্স রয়েছে। মূলত কর ফাঁকি দিতেই ব্যবসায়ীরা এফএসএসএআই অনুমোদিত ফুড সেফটি লাইসেন্স ছেড়ে হকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে ব্যবসা করছেন।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট তৈরি করতে মাত্র ১০০টাকা প্রয়োজন হয়। এই সার্টিফিকেট শুধুমাত্র ফুটপাত ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। যদিও ব্যবসায়ীদের একটা অংশ অসাধু উপায়ে সেই সার্টিফিকেট আদায় করে নিচ্ছে। ঘটনায় তাঁদের হাজার হাজার টাকা সঞ্চয় হচ্ছে। দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ফুড সেফটি লাইসেন্স পেতে হোটেল ও রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে ২০০০টাকা খরচ করতে হয়। মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে ৩০০০টাকা। লাইসেন্স সচল রাখতে প্রতি বছর একই পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে। যদিও বহু ব্যবসায়ীই সেই কর ফাঁকি দিতে ১০০টাকার হকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট হাতিয়ার করেই কাজ সারছেন। এমন হোটেল, রাস্তরাঁ কিংবা মিষ্টির দোকানের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। যদিও তাঁদের একটা অংশের দাবি, কোনটা সার্টিফিকেট কোনটা লাইসেন্স সেসব তাঁদের জানা নেই।
ব্যবসায়ী অলোককুমার দাস বলেন, ২০০০ টাকা খরচ করে নথি তৈরি করেছিলাম। তবে সেটা হকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নাকি ফুড সেফটি লাইসেন্স তা জানা নেই। পড়াশোনা জানি না, যে যেমন বুঝিয়েছে তেমনই বুঝেছি।
সিউড়ি মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ওই সকল ব্যবসায়ীকে চিহ্নিতকরণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর আমাদের সহযোগিতা চাইলে যথাপোযুক্ত সাহায্য করা হবে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করুক তবে রাজস্ব ক্ষতি যেন না হয়।