সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: নিজের হোটেলের বাইরেই চেয়ারে বসে থাকাকালীন দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল মালিকের। ঘটনাটি ঘটেছে সামশেরগঞ্জের নতুন ডাক বাংলা এলাকায়। এই ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত হাটেল মালিকের নাম মহম্মদ রুহুল ইসলাম (৩৪)। তিনি রাহুল বিশ্বাস নামেই এলাকায় অধিক পরিচিত। তাঁর বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার তারবাগান এলাকায়।
জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে সামশেরগঞ্জের নতুন ডাক বাংলা এলাকায় নিজের হোটেলের সামনে চেয়ারে বসেছিলেন রহুল সাহেব। সেই সময় সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান নতুন ডাকবাংলা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে আসা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় বহুল সাহেবকে। ওখানে থাকা লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এপ্রসঙ্গে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চলেছে। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুরে মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকাই গুলির শব্দ পায় এলাকাবাসী। কিসের শব্দ প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি স্থানীয়রা। রহুল সাহেবের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়ে যান। তাঁরা এসে দেখেন হোটেলের সামনেই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন রহুল সাহেব। তাঁর বুকের ডান দিকে ও মাথায় গুলি লেগেছিল। পুলিশের অনুমান তাঁকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তার মধ্যে তিনটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় দু’টি গুলি তাঁর শরীরে লাগে। রক্তে ভিজে যায় গোটা শরীর।
স্থানীয় লোকজন রহুল সাহেবকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর সেখান থেকে তড়িঘড়ি তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রহুল সাহেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। কে বা কারা তাঁকে গুলি করে খুন করল তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরতে পারেনি পুলিশ। তারা গুলি চালিয়েই জাতীয় সড়ক ধরে বহাল তবিয়তেই পালিয়ে যায়। রহুল সাহেব আগে কেন্দু পাতার ব্যবসা করতেন। মাস তিনেক আগে তিনি নতুন ডাক বাংলা এলাকায় ওই হোটেল খুলেছিলেন।
স্থানীয় একটি নার্সিংহোমের নিরাপত্তা কর্মী সামিউল আলিম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম পটকা ফাটছে। পরপর গুলির শব্দ ও যুবকের চিৎকারে পেয়ে গার্ডরুম থেকে বেরিয়ে আসি। ওই যুবক গুলি করে দিল গুলি করে দিল বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু, ভয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি। তাই আশেপাশের আরও কয়েকজন চিৎকার করে ডাকি। গিয়ে দেখি মেঝেয় ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে রয়েছে।
মৃতের বাবা মহম্মদ সাইনুল হক বলেন, রাতে খবর পেতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ছেলেকে কে বা কারা গুলি করেছে জানি না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।