নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বসিরহাটের টাকিতে ইছামতী ‘দখল’ করে একাধিক হোটেল তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে দু’টি হোটেল নিয়ে পুলিস ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানান এক আইনজীবী। সেই মতো সংশ্লিষ্ট দপ্তর তদন্ত করে। তাতে ‘বেআইনি’ নির্মাণে সিলমোহর পড়েছে বলে খবর। বিশেষ একটি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে বসিরহাটের সেচদপ্তর এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে মহকুমা প্রশাসনকে। পাশাপাশি অভিযোগকারী আইনজীবীর কাছেও তা পৌঁছবে।
ইছামতী নদীর তীরে টাকিতে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের ঢল নামে। এখানে অবৈধভাবে ইছামতীর চর দখল করে গজিয়ে উঠছে বিলাসবহুল হোটেল-রিসর্ট, অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। মানুষের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই প্রায় আট বছর আগে তৈরি হয়েছিল একাধিক হোটেল। কয়েকদিন টাকিতে বেড়াতে এসে নিরাপত্তার ‘কঙ্কালসার’ দশা নিয়ে পরিবেশ, সেচদপ্তর, টাকি পুরসভা, বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযোগ জানান কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তন্ময় বসু। তবে হোটেল মালিকদের একাংশ জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম মেনেই তৈরি হয়েছে হোটেল। এনিয়ে জলঘোলা হতেই শুরু হয় তৎপরতা। সূত্রের খবর, ক’দিন আগে মহকুমা প্রশাসন ও সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত করা হয়। তাতে উঠে এসেছে বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি! সেচদপ্তরের এক কর্তা সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তন্ময়বাবু বলেন, আমি বিশেষ সূত্র মারফত সেচদপ্তরের এই রিপোর্ট দেখেছি। তাতে যে দু’টি হোটেলের নির্মাণ অবৈধ বলে অভিযোগ করেছিলাম, তা মেনে নিয়েছে সেচদপ্তর। আশা করি, ক’দিন মধ্যেই এই রিপোর্ট হাতে পাব। তারপর এই বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করব। বসিরহাটের সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফোন বা মেসেজের জবাব দেননি বসিরহাটের এসডিও আশিস কুমারও। টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলব। স্থানীয়রা অবশ্য বলছেন, অবৈধ হোটেল ভাঙতে প্রশাসন কি পদক্ষেপ করে সেটার দেখার!