Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিয়েবাড়ির বাজি তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আশঙ্কাজনক ৪, চম্পাহাটিতে আতঙ্ক

পৌষ শেষ হলেই ফের শুরু হবে বিয়ের মরশুম। বিয়েবাড়িতে আতশবাজি পোড়ানো এখন নয়া ‘ট্রেন্ড’।

বিয়েবাড়ির বাজি তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আশঙ্কাজনক ৪, চম্পাহাটিতে আতঙ্ক
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: পৌষ শেষ হলেই ফের শুরু হবে বিয়ের মরশুম। বিয়েবাড়িতে আতশবাজি পোড়ানো এখন নয়া ‘ট্রেন্ড’। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজি তৈরির কাজ চলছিল চম্পাহাটির হাড়ালের একটি কারখানায়। শনিবার সেখানেই ঘটে গেল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে। গুরুতর জখম হন ওই কারখানার চার শ্রমিক। পুলিশ জানিয়েছে, জখম চারজন হলেন রাহুল পুই (২৩), বিশ্বজিৎ মণ্ডল (১৭), কৃষ্ণ প্রামাণিক (১৭) এবং গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় (৬০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কৃষ্ণ ও গৌরহরিকে এম আর বাঙুর হাসপাতাল এবং অন্য দু’জনকে কলকাতারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চারজনেরই শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছে বলে খবর। ঘটনার পর থেকেই কারখানার মালিক বিধান নস্কর পলাতক। তাঁর সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। অবৈধভাবে বাজি মজুত রাখার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজুর পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Advertisement


সূত্রের খবর, কারখানার কোনও শ্রমিকের বিড়ির আগুন থেকেই এই ঘটনা। পুলিশ জেনেছে, ঘটনার সময় চার-পাঁচজন শ্রমিক বাজি তৈরিই করছিলেন। তবে এক শ্রমিকের দাবি, বাজির মশলা ঠিক ছিল না বলেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। মালিক বিধান নস্করের বাড়ি লাগোয়া বাগানের মধ্যেই কারখানা। বাজির মশলা ভর্তি তিনটি ড্রাম একে একে ফাটতে থাকে। কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ততক্ষণে পুরো কারখানাই মাটিতে মিশে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে জ্বলছে ধিকি ধিকি আগুন। ওই কারখানা লাগোয়া জমিতেই শুভাশিস মন্ডল, দেবাশিস মণ্ডলদের বাজির কারখানা। সেগুলিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাগানের একটি তেঁতুল গাছও পুরো ঝলসে যায়। এমনকি, কিছু দূরের বাড়িঘরেও ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ। 


বারুইপুর থানার আইসি’র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। দমকল আসার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে বারুইপুর থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। প্রসঙ্গত, এক বছর আগে এই হাড়ালেই পিন্টু মণ্ডল নামে এক বাজি ব্যবসায়ীর কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছিল। তারপর বারুইপুর থানা একাধিকবার এই এলাকায় অভিযান চালায়। কয়েকশো কেজি নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠকও করা হয়েছিল। তারপরেও হাড়াল যে হাড়ালেই রয়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে দাবি ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, কারখানার এক দিকে তখনও প্রচুর চকোলেট বোম মজুত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকার অন্যান্য কারখানাও সিল করে দেয়। অকুস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, কারখানাটি প্রায় ২০ বছর ধরে চলছিল। তবে এলাকার অন্যান্য বাজি কারবারিদের দাবি, বিধান নস্করের লাইসেন্স ছিল। আজ, রবিবার আসবে ফরেনসিক টিম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ