নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলাজুড়ে তৃণমূলস্তরের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। জেলার একগুচ্ছ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ও বিজ্ঞানসম্মত পাকাবাড়ি তৈরির জন্য প্রায় ২০ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওইসব ভবন নির্মাণের জন্য হুগলি জেলা পরিষদে তৎপরতা শুরু হয়েছে। পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদের কাছে খুশি হয়েছিল রাজ্য সরকার। তখনই কিছু প্রকল্প অনুমোদন করে পুরস্কার দেওয়ার কথা হয়। সেই সূত্রেই একগুচ্ছ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নয়া ভবন তৈরির প্রকল্প পেয়েছে হুগলি জেলা পরিষদ।
জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি ব্লক প্রাইমারি হেলথ ইউনিট, তিনটি প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, চারটি উন্নতমানের সাব হেলথ সেন্টার ও ২১টি মাঝারি মানের সাব হেলথ সেন্টার তৈরি করা হবে। সব মিলিয়ে ২০ কোটি ১৯ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৬৫ টাকা রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছে। নয় মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে চাইছে জেলা পরিষদ। কাজ শেষ হয়ে গেলে জেলাজুড়ে ৩১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিক ভবন পাবেন নাগরিকরা।
জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ দেবীপ্রসাদ রক্ষিত বলেন, অনেকগুলি স্বাস্থ্যকেন্দ্রই খুব বেহাল অবস্থায় ছিল। আমরা এনিয়ে রাজ্যের কাছে দরবার করতেই সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি। নাগরিকদের হাতে সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিষেবা তুলে দিতে ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলানেতা সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলা পরিষদের কাজে আমাদের নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী খুশি। প্রথম দফাতেই তাই জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে একগুচ্ছ প্রকল্প তিনি অনুমোদন করে দিয়েছেন। এমনিতেই আমাদের সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সেখানেই জেলার সমস্যা কথা পেশ করতেই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এবার আমাদের দায়িত্ব দ্রুত সেই প্রকল্প রূপায়ণ করে জেলার নাগরিকদের কাছে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সুফল পৌঁছে দেওয়া। নির্মাণ সংস্থাকে নয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হবে।
নতুন ওই ভবনগুলি নির্মাণের ক্ষেত্রে গোটা জেলাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১৮টি ব্লকের প্রায় প্রত্যেকটি একটি করে প্রকল্প পেয়েছে। ধনেখালি, চণ্ডীতলা-১, আরামবাগ, পুরশুড়া ব্লক, উন্নতমানের হেলথ সেন্টার প্রাপক ব্লকের তালিকায় আছে। জেলা সদরের চুঁচুড়া-মগরা, সদর থেকে দূরবর্তী হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, গোঘাট, চণ্ডীতলা-২ এবং জেলার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত সিঙ্গুর ব্লকে মাঝারি মানের সাব সেন্টার তৈরি হবে।