Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হুগলিতে বাড়ি ৬০ হাজার উপভোক্তাকে, দ্বিতীয় দফায় কাজ শুরু, এসএমএস পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করছে প্রশাসন

হুগলি জেলায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬০হাজার উপভোক্তা পাকা ঘর পেতে চলেছেন। বরাদ্দ টাকা দিতে প্রশাসন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

হুগলিতে বাড়ি ৬০ হাজার উপভোক্তাকে, দ্বিতীয় দফায় কাজ শুরু, এসএমএস পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করছে প্রশাসন
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলি জেলায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬০হাজার উপভোক্তা পাকা ঘর পেতে চলেছেন। বরাদ্দ টাকা দিতে প্রশাসন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এজন্য উপভোক্তাদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। সুপার চেকিংয়ের কাজ শেষ হলে রাজ্য সরকার টাকা পাঠাবে। এখবরে মাথার উপর পাকা ছাদ পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন দুঃস্থ উপভোক্তারা।

Advertisement

হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনুজপ্রতাপ সিং বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ চলছে। বরাদ্দ টাকা পেলেই তা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের প্রথম দফায় হুগলি জেলার প্রায় ৬১হাজার উপভোক্তা টাকা পেয়েছিলেন। তাঁদের ১লক্ষ ২০হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে অনেক গরিব পরিবার টাকা পেয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে বাড়িঘর ভেঙে গিয়েছে, এমন বহু পরিবারও সেই তালিকায় রয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬০হাজার উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দিতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে। এখবরে আরামবাগ মহকুমা সহ হুগলি জেলাজুড়ে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে।
তবে প্রথম দফায় দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েও কয়েকশো উপভোক্তা বাড়ি তৈরি করেননি। কিছু উপভোক্তা মারা যাওয়ায় বাড়ি তৈরি আটকে গিয়েছে। অনেকে টাকা পেয়েও অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাই দ্বিতীয় দফায় টাকা দেওয়ার আগে প্রশাসন নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, অনেক উপভোক্তাই জমিজটের কারণে বাড়ির কাজ শুরু করতে দেরি করেন। সেধরনের জট আছে কিনা, এবার আগে থেকেই তা দেখে নেওয়া হচ্ছে। তবে রেজিস্ট্রেশনের কাজে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি হচ্ছে বলে আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন।
খানাকুল-২ এর বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় দফায় উপভোক্তাদের সুবিধা দিতে সুপার চেকিং শেষ হয়েছে। এখন প্রাপকদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। উপভোক্তারা সেই এসএমএস-এর লিঙ্ক থেকে রেজিস্ট্রেশন করছেন। তবে অনেকে সশরীরে পঞ্চায়েত অফিসে এসেও তা করাচ্ছেন। খানাকুল-১ এর বিডিও অরিন্দম মুখোপাধ্যায় বলেন, সুপার চেকিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। তালিকায় কিছু সন্দেহজনক উপভোক্তার নাম রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১০০জন উপভোক্তার বাড়ির অবস্থা ফের একবার খতিয়ে দেখা হবে। আবাস যোজনায় কেন্দ্র টাকা দেয়নি। তাই রাজ্য সরকারই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা দিচ্ছে। এনিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রচারে নামতে চলেছে। তবে পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ এনিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রথম দফায় অনেক যোগ্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মানুষ ভোটে এর জবাব দেবেন।
তৃণমূল অবশ্য বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শাসকদলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পলাশ রায় বলেন, উন্নয়নই আমাদের হাতিয়ার। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক জনমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে পরিষেবা দিচ্ছেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তাই মানুষ তৃণমূলকেই আশীর্বাদ করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ