ওয়াশিংটন: নজিরবিহীনভাবে শুক্রবার টেসলা কর্তা এলন মাস্ককে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপরই আলাপচারিতা নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শদাতা। মাস্ক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এবছরের শেষের দিকে তিনি তাঁর ভারত সফরের কথাও জানিয়েছেন। তবে এই প্রথম নয়, গত বছরেও দু’বার ভারতে আসার কথা জানিয়েছিলেন এক্স-টেসলার মালিক। কিন্তু, ‘ব্যস্ততার’ কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করে দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন মোদি। সেখানে মাস্কের সঙ্গে আলাদা করে কথাও বলেন তিনি। তারপর মার্কিন ধনকুবেরকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তাঁদের মতে, সাধারণত দুই রাষ্ট্রপ্রধান একে অন্যকে ফোন করেন। সেখানে আদ্যোপ্রান্ত একজন ব্যবসায়ী এবং সরকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন এক ব্যক্তিকে ফোন করছেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। তবে, মার্কিন অর্থনীতির বাইরে ভারতে ব্যবসা নিয়ে আলাদা স্বার্থ রয়েছে মাস্কের। তাঁর সংস্থা টেসলার ইলেকট্রিক গাড়ি বহুদিন ধরে ভারতের বাজারে নিয়ে আসতে চাইছেন মাস্ক। এছাড়া, স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট পরিষেবার বিষয়টিও আটকে রয়েছে। বর্তমানে চীন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের আবহে ভারতের সঙ্গেও দরকষাকষি করছে আমেরিকা। সেই সুযোগে কম শুল্ক দিয়ে ভারতে টেসলা-স্টারলিঙ্কের ব্যবসা শুরু করতে পারলে মাস্কেরই সুবিধা। সেদিক থেকে তাঁর ভারত সফর, নিজেকে ‘মোদি-ভক্ত’ পরিচয় দেওয়ার মধ্যে আশ্চর্য কিছু দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর মোদি জানিয়েছেন , প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়ে ভারত ও আমেরিকা পরস্পরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। দু’দেশের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর হবে। কিন্তু, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য মোদি কেন ট্রাম্প অথবা মার্কিন কোনও মন্ত্রীকে বাছলেন না? কেন মাস্ককে বেছে নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে ৪ হাজার স্কোয়ার ফুট জমি নিয়েছে টেসলা। দিল্লি, মুম্বইতে আরও জায়গা খুঁজছে তারা। এছাড়া, আগামী সপ্তাহেই স্টারলিঙ্কের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী পিযূষ গোয়েলেরও।