সংবাদদাতা, লালবাগ: পর্যটনের শহর লালবাগে হোটেল ব্যবসার আড়ালে রমরমিয়ে চলছে দেহ ব্যবসা। শহরের রেজিস্ট্রি অফিস মোড় থেকে হাজারদুয়ারি যাওয়ার রাস্তায়, মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশন থেকে বিডিও অফিস যাওয়ার রাস্তা এবং মোতিঝিল এলাকায় কিছু হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ। শনিবার মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশন সংলগ্ন একটি হোটেলে পুলিস অভিযান চালাতেই পর্দাফাঁস হয়। সেখানে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে হোটেল মালিক ও ম্যানেজার এবং দু’জন খদ্দেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছ’জন মহিলাকেও উদ্ধার করা হয়। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শুধু ওই হোটেল নয়, একাধিক হোটেলে দেহ ব্যবসা চলছে বলে তাঁদের অভিযোগ। সারাদিন ধরে হোটেলগুলিতে খদ্দেরদের আনাগোনা লেগেই থাকে। সন্ধ্যা নামলেই ভিড় বাড়তে থাকে। ফলে শহরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পুলিস ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালালে এই কারবার বন্ধ হবে।
লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, সোর্সের খবর মোতাবেক ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছ’জন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি হোটেল আমাদের নজরে রয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলিতেও অভিযান চালানো হবে।
লালবাগ শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০টি হোটেল রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারির আগে পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে বেশকিছু হোটেলে দেহ ব্যবসা চলে বলে অভিযোগ। শহরবাসীর দাবি, পুলিস প্রশাসনকে নজরানা দিয়েই বছরের পর বছর অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে। পর্যটকরা অনেক ক্ষেত্রে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। শহরের পর্যটন বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিসকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। লালবাগ শহর কংগ্রেস সভাপতি অর্ণব রায় বলেন, হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা ইতিহাসের শহর লালবাগের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এবিষয়ে দলের পক্ষ থেকে পুলিস-প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। ইদানীং নবাবের শহরে এসব অসামাজিক কাজের বাড়বাড়ন্ত চলছে। পুলিস ধরপাকড় করেছে শুনেছি। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। সেইসঙ্গে আশঙ্কাও হচ্ছে এটা আইওয়াশ নয়তো!
মুর্শিদাবাদের বিধায়ক বিজেপির গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, কিছু হোটেলে অবাধে দেহ ব্যবসা চলছে। শাসকদলের নেতাদের প্রশ্রয়ে এবং পুলিস-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে হোটেলগুলি চলছে। পুলিসের সঙ্গে সেটিং হলেই সব ঠান্ডা। স্থানীয় সিপিএম নেতা মনু শেখ বলেন, মোতিঝিল এলাকায় জঙ্গলের ভিতরে, কার্জন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় হোটেল গড়ে উঠেছে। অথচ ওখানে পর্যটকরা কেউ যান না। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কী উদ্দেশ্যে হোটেলগুলি গড়ে উঠেছে।
তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লক সভাপতি মহম্মদ গোলাম আকবরী বলেন, কোনও হোটেলে অপকর্ম হলে পুলিস ব্যবস্থা নেবে। আসলে বিরোধীদের কোনও কাজ নেই। সব বিষয়ে তৃণমূলকে জড়িয়ে প্রচারে আসার চেষ্টা। মুর্শিদাবাদ হোটেল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক স্বপন দাস বলেন, কিছু হোটেলের জন্য শহরের সমস্ত হোটেল ব্যবসায়ীদের বদনাম হচ্ছে। বাইরে গিয়ে হোটেল ব্যবসায়ী বলতে সঙ্কোচ হয়। আশা করব, পুলিস অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।