Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছোটো থেকেই পড়ুয়াদের সত্যের পথে রাখতে স্কুলে ‘সততা স্টোর’, বনগাঁ কবি কেশবলাল বিদ্যাপীঠের অভিনব উদ্যোগ

ছোটো থেকেই পড়ুয়াদের সততার পাঠ দিতে স্কুলে ‘সততা স্টোর’ গড়ে তুলেছেন শিক্ষকরা

ছোটো থেকেই পড়ুয়াদের সত্যের  পথে রাখতে স্কুলে ‘সততা স্টোর’, বনগাঁ কবি কেশবলাল বিদ্যাপীঠের অভিনব উদ্যোগ
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: ছোটো থেকেই পড়ুয়াদের সততার পাঠ দিতে স্কুলে ‘সততা স্টোর’ গড়ে তুলেছেন শিক্ষকরা। বনগাঁ কবি কেশবলাল বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এই অভিনব উদ্যোগ। স্টোরে মিলছে পেন-পেন্সিল, খাতা সহ পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। কিছু কিনলেই ফ্রিতে একটি চকোলেট মিলছে। স্কুলের পড়ুয়ারা এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারে। দামও বাজারদরের সমতুল্য। লাভের অংশ পড়ুয়াদের জন্যই ব্যয় করা হয়।

Advertisement

গোটা স্কুলটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। দেওয়ালে লেখা মনীষীদের বাণী। স্কুলের ভিতরে হরেক গাছগাছালি। সব্জি, পশু-পাখিদের সঙ্গে কচিকাঁচাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। এহেন সাজানো গোছানো স্কুলে ঢুকে প্রথমেই নজরে আসবে একটি ছোট ‘দোকান’। যদিও এই দোকানে নেই কোনও দোকানদার। এখানে পাওয়া যায় খাতা, পেন, পেন্সিল, ইরেজার সহ পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র। এটাই ‘সততা স্টোর’। কিন্তু এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের কীভাবে সততার পাঠ দেওয়া হচ্ছে? স্টোরে সমস্ত জিনিসের দাম লেখা আছে। রাখা আছে একটি কৌটো। পড়ুয়ারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে সেই কৌটোয় সঠিক মূল্য রেখে দেয়। রেজিস্টার বুকে পড়ুয়ারা তাদের নাম, শ্রেণি ও কী কিনছে, তা নিজেরাই লিখে রাখে। পাশেই একটি কৌটোয় রাখা চকোলেট। কিছু কিনলে তবেই সেখান থেকে একটি চকোলেট নিতে পারবে ‘ক্রেতা’। 
স্কুলের ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যা ১৬১। প্রি-প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় এখানে। মোট ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। স্কুলে ‘সততা স্টোর’-এর উদ্বোধন হয় গত ১৫ আগস্ট। স্কুলের এমন উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। এই অভিনব ভাবনা ও তার সফল রূপায়ণ শিক্ষার্থীদের সততার পথে থাকতে শেখাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসুদেব পাল বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একবার হিসেব মিলিয়ে দেখা হয়। প্রতি সপ্তাহেই হিসেব মিলে গিয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে সততার বোধ গড়ে উঠছে। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে খাতা, পেন বা পেন্সিল আনতে  ভুলে যায়। আমাদের এই ব্যবস্থা থাকায় এখন আর তা নিয়ে কোনও চিন্তা থাকে না।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ