নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লেন ভেঙে যাতায়াতের অভিযোগ। মঙ্গলবার বিকেলে এক বাইক চালককে আটকাতেই তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয় বেলগাছিয়া লাগোয়া দত্তবাগানে। এলাকাবাসীর দাবি, ওই বাইক আরোহী যুবককে টেনে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। ওইসময় পাতিপুকুরগামী বাস দ্রুত ব্রেক না কষলে, বড় দুর্ঘটনা ঘটত। এমনকি, ওই যুবককে এক ট্রাফিক হোমগার্ড চড় মারেন বলে অভিযোগ। পরে এলাকাবাসীর চাপে অভিযুক্ত হোমগার্ড প্রকাশ্যে করজোড়ে ক্ষমাও চান। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও ট্রাফিক পুলিশ ওই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাবাসীর চাপে তাঁরা আইনভঙ্গকারী যুবককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
দমদম মিত্রবাগানের বাসিন্দা সৌভিক সাঁতরা। এদিন বিকেলে তিনি পাতিপুকুর এলাকায় কাজে গিয়েছিলেন। স্থানীয় পেট্রল পাম্পে তেল ভরে যশোর রোডের দত্তবাগান ক্রসিং পার করছিলেন। পুলিশের দাবি, ওই যুবক লেন ভেঙে আসছিলেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কর্তব্যরত হোমগার্ড তাঁর পথ আটকান। অভিযোগ, তখনই ওই যুবক ফোনে স্থানীয়দের ডেকে এনে ঝামেলা পাকান। যদিও স্থানীয়দের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এলাকাবাসীর দাবি, ক্রসিং পার হওয়ার সময় আচমকাই শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের কর্মী রাস্তার মাঝে ওই যুবকের বাইক আটকান। ততক্ষনে সিগন্যাল গ্রিন হয়ে যায়। পরপর গাড়ি আসতে দেখে সৌভিক সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক হোমগার্ডকে রাস্তার ধারে যাওয়ার কথা বলে বাইক নিয়ে এগিয়ে যান। অভিযোগ, সেই সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী তাঁর বাইকের হ্যান্ডেল ধরে টান মারেন। বাইক নিয়ে ওই যুবক রাস্তায় উল্টে পড়েন। ওইসময় পাতিপুকুরগামী বাস আসছিল। কোনওভাবে ব্রেক করে বাসটি দাঁড়িয়ে যায়। সামান্য এদিন ওদিক হলেই তিনি বাসের চাকায় পিষ্ট হতেন বলে অভিযোগ। ওই সময় সৌভিককে রাস্তা থেকে তুলে ওই ট্রাফিক হোমগার্ড চড় মারেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। ট্রাফিক পুলিসকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। খবর পেয়ে শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ড থেকে পরপর পুলিশ আধিকারিকরা পৌঁছন। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। শেষপর্যন্ত এলাকাবাসীর চাপে ওই হোমগার্ড প্রকাশ্য রাস্তায় হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে ছ'টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। সৌভিক বলেন, আমার মাথায় হেলমেট ছিল। লাইসেন্স সহ বাইকের সমস্ত কাগজ ছিল। দত্তবাগান মোড়ে নিয়ম মেনে ক্রসিং পার করছিলাম। সেই সময় আমাকে আটকানো হয়। আমি রাস্তার ধারে যাচ্ছি বলে সামনে দিকে এগোচ্ছিলাম। তখনই বাইক ধরে হেঁচকা টান মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। ওই সময় রাস্তা দিয়ে আসা বাস ব্রেক না কষলে, আমি বাঁচতাম না। কেন রাস্তায় ফেলা হল জানতে চাওয়ায় আমাকে চড় মারার পাশাপাশি আমার লাইফ শেষ করার হুমকি দেওয়া হয়। যদিও পুলিশের তরফে ভুল স্বীকার করার দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যুবক ট্রাফিক আইন ভেঙেছিলেন। এলাকাবাসীর গা জোয়ারি করে ওই যুবককে ছাড়িয়েছে।