সুজিত ভৌমিক, কলকাতা; আর জি কর কাণ্ডে নবান্নে রিপোর্ট দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই রিপোর্ট তলব করেছিল লালবাজারের কাছে। লালবাজারের এক বিশেষ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা; আর জি কর কাণ্ডে নবান্নে রিপোর্ট দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই রিপোর্ট তলব করেছিল লালবাজারের কাছে। লালবাজারের এক বিশেষ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৫ মে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর জি কর কাণ্ডে তৎকালীন সিপি বিনীত গোয়েল, ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তা এবং ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন। তারপর নিয়ম মেনে এই তিন আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষস্থানীয় আইপিএস অফিসার জানান, আর জি কর কাণ্ডে সাসপেন্ডেড তিন আইপিএস অফিসারের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মূলত, সেই কারণে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর লালবাজারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল।
লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে, সদ্য বদলি হওয়া কলকাতার গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাসমিত্র এবং যুগ্ম কমিশনার (সদর) সুদীপ সরকার এই ইস্যুতে সিপিকে আলাদাভাবে রিপোর্ট দেন। তার ভিত্তিতে গত সপ্তাহে অজয় নন্দা নবান্নে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, এই রিপোর্টের জন্য অভয়া ধর্ষণ ও খুনের মামলা সম্পর্কিত সমস্ত জেনারেল ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে টালা থানা থেকে। পাশাপাশি, আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে ১৪ আগস্ট সংগঠিত ‘রাত দখলের লড়াই’ উপলক্ষ্যে পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তেমনিই, ওই রাতে আর জি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে মোট কতগুলি মামলা দায়ের হয়েছিল, গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মোট কজনকে এবং মামলাগুলির বর্তমান স্টেটাস কী, তা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করেছে লালবাজার। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মধ্যরাতে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে অভয়া ধর্ষণ ও খুনের পর, প্রথম পাঁচদিন তদন্ত করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যদার এক অফিসারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিপিকে রিপোর্ট দিয়েছেন গোয়েন্দা প্রধান। তবে সিপির রিপোর্টের বিষয়বস্তু নিয়ে লালবাজারের কোনো কর্তাই সরকারিভাবে মুখ খুলতে চাননি।
নবান্ন সূত্রের খবর, বিভাগীয় তদন্তে সাসপেন্ডেড তিন আইপিএস অফিসারের ভূমিকা সিপির এই রিপোর্টের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখবে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে জানার চেষ্টা হবে—বাহিনীর তৎকালীন সর্বোচ্চ কর্তা বিনীত গোয়েলের ভূমিকা এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা অভয়ার মাকে ১০ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রস্তাব কার নির্দেশে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দেখা হবে—তদন্তের ত্রিসীমানায় না-থাকা ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় আগ বাড়িয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন কার নির্দেশে? উল্লেখ্য, সিবিআই তদন্ত চলাকালেই ওই বিতর্কিত সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।