নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দোল-বাণিজ্যেও বসতি মহাকুম্ভ! প্রয়াগে দেবাদিদেব মহাদেবের নামে এবার ডুব দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। কারও হাতে ত্রিশূল। কারও হাতে ডমরু। যে যেমনভাবে পেরেছেন, আবেগে ভেসেছেন প্রলয়ের দেবতাকে ঘিরে। আর সেই আবেগকে পুরোদস্তুরভাবে দোল-বাণিজ্যে ব্যবহার করল বিভিন্ন পিচকারি প্রস্তুতকারক সংস্থা। ডমরু সহ পিচকারি বাজারে এনে কৃষ্ণভক্তদের চমকে দিয়েছে তারা। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন সাইজের ত্রিশূল পিচকারি বাজার দাপাচ্ছে। মহাদেব উগ্রমূর্তি ধারণ করলে ত্রিশূল থেকে অগ্নি বের হতো। এখানে ত্রিশূল পিচকারি থেকে বের হবে রঙিন জল। ত্রিশূলের মুখে বাঁধা ডমরুও। এই অভিনব পিচকারি এখন হিট আসানসোল বাজারে।
শুক্রবার দোল, শনিবার হোলি। রঙের উৎসবে মেতে উঠতে তৈরি হচ্ছেন শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা। আসানসোল, দুর্গাপুরের বাজারে কেনাকাটা করতে ভিড় বাড়ছে। সেই ভিড়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষ। দোল যেন এখানে সার্বিক ও সম্প্রীতির। মা মেহেরুন খাতুনের কোলে চেপে আবির কিনতে এসেছে ছোট্ট আলিফা খাতুন। কিনেও নিয়েছে পিচকারি। পাশেই দাঁড়িয়ে আলিফার বাবা। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা রেলপাড়ে থাকি। সেখানে দোল, হোলি দু’দিন রঙের উৎসবে মেতে থাকি। এখানে হিন্দু-মুসলিম বলে কোনও ভাগাভাগি নেই।’ দোকানদার অমিত সোনকর বলেন, ‘আধ ঘণ্টা আমার দোকানে থাকুন ১০ জন হিন্দু ক্রেতা থাকলে দু’জন মুসলিম পরিবারের সদস্যদের দেখবেন আবির, রঙ, পিচকারি কিনতে। এজন্যই আমাদের শহরের নাম সিটি অফ ব্রাদারহুড।’
সেই শহরের অলি-গলির বিভিন্ন দোকানে ঝুলছে মহাদেবের ত্রিশূল পিচকারি, নানা রঙের, নানা আকারের। দু’শো থেকে সাড়ে তিনশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই বিশেষ পিচকারি। ব্যবহারের পদ্ধতি একই। সদ্য প্রয়াগরাজ থেকে ফিরেছেন দেবেশ শর্মা, রবি সিং , দেবেন্দ্র পালরা। তাঁরা বলছিলেন, ‘মহাকুম্ভে ডুব দিয়ে পুণ্য করেছি। এবার ত্রিশূল দিয়ে রঙ খেলব।’ ব্যবসায়ী রবি সোনকর বলেন, ‘বাজারে যথেষ্ট বিক্রি হচ্ছে এই পিচকারি। আমাকে আরও অর্ডার দিতে হয়েছে।’ ব্যবসায়ী অমিত সোনকরও বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে ত্রিশূল পিচকারি বিক্রি করব।’-নিজস্ব চিত্র