সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ার বাড়বাজিতপুরে হাইতি পরিবারের শতাব্দী প্রাচীন দোল উৎসব ঘিরে আনন্দে মেতেছে কয়েকটি গ্রামের মানুষ। শ্যামসুন্দর রাধারানি জিউয়ের দোল নামে এটি এলাকায় পরিচিত। এবার হাইতি পরিবারের ওই দোল উৎসব ১৫৩ বছরে পদার্পণ করেছে। সার্ধশতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া হাইতি পরিবারের ওই দোল উৎসব পরিচালনা করে নরারুণ ট্রাস্ট। হাইতি পরিবারের দোল উৎসব মানেই সন্ধ্যায় শিশু কিশোরদের জমজমাট আনন্দ। উৎসব ঘিরে আয়োজিত হয় মেলা। নানা বয়সের মানুষের আবির খেলার সঙ্গে ফুচকা, তেলেভাজার গন্ধে মম করে মেলা প্রাঙ্গণ। শ্যামসুন্দর রাধারানির পুজোয় হরিলুটের বাতাসা কুড়োনোর ধুম পড়ে যায়। কীর্তনগানে মুখরিত হয় গ্রামের আকাশ বাতাস। তবে দিন বদলের পাশাপাশি ওই প্রাচীন দোল উৎসবের সূচিতেও বদল ঘটেছে।
ওই দোল উৎসবে বাড়বাজিতপুর গ্রামের আদিত্য কুমার হাইতির বাড়ির কুলদেবতা শ্রীশ্রী শ্যামসুন্দর রাধারানি জিউ-এর বিগ্রহ পুজো হয়। দোল উৎসবের পুজো, মেলার সঙ্গে ইদানীং নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোলের আগের দিন উৎসব প্রাঙ্গণে অগ্নিপুজো(চাঁচর) হয়। দু’দিনের ওই উৎসবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে সতীপ্রসাদ হাইতির বাড়ি থেকে শ্যামসুন্দর জিউর আগমন ঘটে পুজোর বেদিতে। বিগ্রহকে ঘিরে মেলার আয়োজন আগের থেকে অনেকটা বেড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ওই উৎসব পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে হাইতি পরিবারের নবারুণ ট্রাস্ট। পরিবারের অন্যতম সদস্য দ্রুপদমোহন হাইতি বলেন, ১৩ মার্চ শিশুদের ক্রীড়া, কীর্তন গান, সর্বসাধারণের ক্রীড়া ও সান্ধ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চাঁচার ও আতশবাজির আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ মার্চ নরনারায়ণ সেবা, রং খেলা, ক্যুইজ, ছন্দবেশ সহ বস্ত্রদান ও শিক্ষা সামগ্রী দানের ব্যবস্থা থাকছে।
সেই সঙ্গে ওই উৎসবে দ্রুপদবাবুর ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রাচীন মুদ্রা, ভারতীয় পদবি ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে আলাদা প্রদশর্নীও থাকছে। দ্রুপদবাবু লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা। দোল উৎসবে কয়েকজন বিশিষ্টজনকে নরারুণ ট্রাস্টের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় প্রতিবছর। হাইতি পরিবারের সদস্যরাই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।-