সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আসছে দোল উত্সব। আলিপুরদুয়ারবাসী রংয়ের উত্সবে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেদিন বিশাল আলিপুরদুয়ার প্যারেডগ্রাউন্ড হয়ে ওঠে ইয়ং জেনারেশনের মিটআপের প্রধান কেন্দ্রস্থল। ছোট থেকে প্রবীণ, সকলেরই ডেস্টিনেশন এই গ্রাউন্ড। তাই বসন্তবরণ ও দোল উৎসবে অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়াতে এবার কড়া হচ্ছে প্রশাসন। দোলখেলার নামে বেলেল্লাপনা, মাতলামি এবং নেশার ঠেক রুখতে রুখতে প্যারেডগ্রাউন্ডে কড়া নজরদারির পথে হাঁটবে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে আয়োজক থেকে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।
প্যারেডগ্রাউন্ডে বসন্তবরণ, দোল উৎসবের অনুমতির জন্য মহকুমা শাসকের দপ্তরে আবেদন জমা পড়েছে। তারপরই নিরাপত্তার খাতিরে প্রশাসনের এই ভাবনা শুরু হয়েছে। যদিও মহকুমা শাসক দেবব্রত রায় বলেন, আমি এ নিয়ে কিছু বলব না। এবিষয়ে যা বলার জেলাশাসক বলবেন। জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, শুনেছি প্যারেডগ্রাউন্ডে শান্তিনিকেতনের আদলে দোল ও বসন্তবরণ উৎসব হয়। এও শুনেছি সেখানে নানা ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটে। এবার তা বরদাস্ত করা হবে না। তাই দোল উৎসবের দিন প্যারেড গ্রাউন্ডে আমরা কড়া নজরদারির কথা ভাবছি। আমরা চাই, প্যারেড গ্রাউন্ডে সুশৃঙ্খলভাবে দোল উৎসব হোক।
প্যারেডগ্রাউন্ডে প্রতি বছরই শান্তিনিকেতনের আঙ্গিকে জমজমাট বসন্তবরণ ও দোলউৎসব পালন করা হয়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শহরের ১০-১২টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ওই মাঠে দোলের জমজমাট অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে রবীন্দ্র, নজরুল, লোকগীতি গান ও নৃত্যের মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত ও দোল উৎসব পালন করা হয়। কিন্তু প্রতিবছর সেই উৎসবকে ঘিরে চূড়ান্ত মাতলামি ও নেশা সহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠে। উৎসব শেষে মাঠের যত্রতত্র মদের বোতল পড়ে থাকার অভিযোগ উঠে। এর ফলে চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয় উদ্যোক্তাদের। নানা অবাঞ্চিত ঘটনা চলতে থাকে। আর এই ঘটনাকে ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
প্যারেডগ্রাউন্ডে বসন্তবরণ ও দোলের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা সংগঠনের এক কর্ণধার ডোনা দত্ত বলেন, আমরা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। অনুষ্ঠান শেষ করে আমরা চলে যাওয়ার পর প্যারেডগ্রাউন্ডে নানা অবাঞ্চিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলিকে কোনওভাবে মানা যায় না। প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিলে খুব ভালো হবে। শহরের অন্যএকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার রাতুল বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অবশ্যই স্বাগত। আমরা চাই প্যারেডগ্রাউন্ডে সুশৃঙ্খলভাবে দোল ও বসন্তবরণ উৎসব হোক।