শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: বাড়ি ফিরে রাতে হাত ধুতে চায়নি ছেলেটা। সারা গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। বুকে ঢেঁকির পাড়। স্বপ্ন? হয়তো তাই। চিমটি কেটে দেখে ছোট্ট আত্মদীপ। ১৪ বছর পরেও মনে হয় স্বপ্নই। চোখ বন্ধ করে দেখতে পায় প্রতিটা মুহূর্ত। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর। ফুটবলের মক্কায় শুধুই নীল-সাদা রং। যুবভারতীতে ভেনিজুয়েলার মুখোমুখি লিও মেসির আর্জেন্তিনা। ম্যাচের আগে টানেলে দু’দলের ফুটবলাররা সারিবদ্ধ। খুদে আত্মদীপের হাত সেদিন মেসির মুঠোয়। পিঠ চাপড়ে টানেল বেয়ে মাঠে চললেন লিও। যুবভারতী জুড়ে ‘মেসি মেসি’ গর্জনে কান পাতা দায়। পরদিন পাড়ায় আত্মদীপই ভিআইপি। মেসির হাত ধরে মাঠে নামা খুদেকে নিয়ে রাজ্যের কৌতূহল। এমনকী, স্কুলেও ওকে ঘিরেই জটলা।
আত্মদীপের বাবা প্রাক্তন ফুটবলার প্রদীপ তালুকদার। ছোটবেলায় হাওড়া সহযাত্রীতে ভর্তি করে দেন ছেলেকে। সবুজ ঘাস, ফুটবলই ওর পৃথিবী। চলছিল এভাবেই। কিন্তু স্কুটার দুর্ঘটনায় সব তছনছ। যমে-মানুষে টানাটানির পর সুস্থ হয় আত্মদীপ। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ততদিনে চুরমার। কিন্তু লিও মেসির ভক্ত সহজে হার মানার পাত্র নয়। আত্মদীপও ফিরেছিল স্বাভাবিক জীবনে। বেচারা বুঝতেও পারেনি, আরও কঠিন ধাক্কা অপেক্ষা করছে। ২০২০ সালে মাকে হারায় আত্মদীপ। পায়ের নীচে মাটি গেল সরে। জীবনের অন্ধকার সময়ে সেই মেসিই ওর প্রেরণা। নীল-সাদার জাদুকরকে আঁকড়ে ধরে শুরু ফেরার লড়াই। এরপর? মেসির আর্জেন্তিনা বিশ্বসেরা। জাদুকরের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি। মন খারাপের মুহূর্তে বারবার ছবিটা দেখে আত্মদীপ। এই হাতই একদিন পরম আদরে আগলে রেখেছিল ছোট্ট খুদেকে। তা যে গল্প হলেও সত্যি। মেসি আবার কলকাতায় আসছেন। পুরনো ছবি হাতে নিয়ে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দেয় সেদিনের খুদে। এতো শুধু ছবি নয়। ফিরে আসার কাহিনিও বটে।
২০১১ সালে মেসির সঙ্গে আত্মদীপ।