চেন্নাই ও নয়াদিল্লি: বিতর্ক বহু পুরনো। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নতুন করে মাথাচাড়া দিল অ-হিন্দি বলয়ে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার সেই অভিযোগ। ‘এক দেশ, এক ভাষা’র ধুয়ো তুলে সারা দেশে হিন্দি চাপিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি—সাম্প্রতিক অতীতে এই ইস্যুতে বারবার সরগরম হয়েছে জাতীয় রাজনীতি। এবার তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের অভিযোগ, ‘হিন্দি আগ্রাসন’ রুখে দেওয়ায় প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। সম্প্রতি এনিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। দাবি করেছেন, হিন্দি চালু না করায় রাজ্যের প্রাপ্য ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা অনৈতিকভাবে আটকে রেখেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এনিয়ে তিনি রীতিমতো ‘ব্ল্যাকমেল’ করছেন। শুক্রবার আরও একধাপ এগিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভাষাযুদ্ধ’ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনও। ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশ্য নির্বিকার। পাল্টা ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে তিনি, ‘দিল্লিবিরোধী রাজনীতি করা হচ্ছে।’
Advertisement
বিবাদের সূত্রপাত মোদি আমলের জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ঘিরে। সেখানে তৃতীয় ভাষা হিসেবে দেশের সমস্ত স্কুলে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। তা মানতে নারাজ তামিলনাড়ু। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে স্ট্যালিন আরও জানান,সমগ্র শিক্ষা অভিযান ও পিএম শ্রী স্কুলস প্রকল্প দু’টিকে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া প্রাপ্য আটকে রাখা নিয়েও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর নামে নালিশ করা হয়েছে। তাতেই দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। এদিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা চিঠি লিখে ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেছেন, ‘কোনও রাজ্যের উপরেই ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।’ পরে এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোটা বিষয়টি নিয়ে দিল্লিবিরোধী রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সাফ ইঙ্গিত, পিএম শ্রী প্রকল্প নিয়ে তামিলনাড়ু সরকারের অনড় মনোভাবের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা আটকে। এই পরিস্থিতিতেই এদিন নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভাষার ভিত্তিতে বিভেদের চেষ্টা না করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতীয় ভাষাগুলির মধ্যে কখনও কোনও বৈরিতা ছিল না। তাহলে কেন রাজ্যের প্রাপ্য আটকে রাখা হচ্ছে? কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি। জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা শুধু শিক্ষাখাতের জন্য প্রাপ্য বরাদ্দ টাকা চাইছি। তামিলনাড়ু বরারবই তিন ভাষা নীতির বিরোধিতা করেছে। তামিল আমাদের অধিকার। এবার বুঝুন কারা রাজনীতি করছে।’
২০১৯ সালে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া প্রকাশ্যে আসার পরেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় মোদি সরকারকে। ওই খসড়ায় দেশের সমস্ত স্কুলে হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরলের মতো দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি। বিরোধিতা করেছিল পশ্চিমবঙ্গও। তবে পিছু হটতে নারাজ কেন্দ্রও।
২০১৯ সালে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া প্রকাশ্যে আসার পরেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় মোদি সরকারকে। ওই খসড়ায় দেশের সমস্ত স্কুলে হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরলের মতো দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি। বিরোধিতা করেছিল পশ্চিমবঙ্গও। তবে পিছু হটতে নারাজ কেন্দ্রও।



