Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হিমঘর নেই, সমস্যায় করিমপুরের পেঁয়াজ চাষিরা

হিমঘর নেই, সমস্যায় করিমপুরের পেঁয়াজ চাষিরা
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: এলাকায় হিমঘর না থাকায় উৎপাদিত কাঁচামাল সংরক্ষণ করা যায় না। তাই বহুদিন ধরেই করিমপুরের চাষিরা একটি হিমঘর করার দাবি জানিয়ে আসছেন প্রশাসনের কাছে। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, ভোট আসে ভোট যায়, হিমঘরের দাবি মেটে না। তেহট্ট মহকুমায় করিমপুরের রহমতপুর, কাঠালিয়া, গড়াইমারি বা গোয়াস এলাকায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ চাষ হয়। বর্তমানে পেঁয়াজ বীজ বোনা বা গুটি পেঁয়াজ লাগানোর মরশুম চলছে। কাঠালিয়ার পেঁয়াজ চাষি মলিন সরকার বলেন, এবার পচিশ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছেন। পেঁয়াজ চাষ করতে বীজ, জল, সার ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা খরচ হয়। পেঁয়াজ উৎপাদন হয় বিঘাপিছু প্রায় ত্রিশ কুইন্টাল। এখানে অনেক চাষি যেমন টাকার জন্য কুইন্টাল পিছু ৮০০-১০০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। আবার যাঁদের বাড়িতে রাখার ক্ষমতা আছে তাঁদেরও কয়েক মাস পেঁয়াজ রাখার পরে ফসল পচতে শুরু করে। অন্যান্য রাজ্যের মতো উৎপাদিত পেঁয়াজ হিমঘরে সংরক্ষণ করে রেখে পরে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যেত। জয়নাবাদের চাষি অরুণকুমার মণ্ডল বলেন, এখানে দুই প্রকার পেঁয়াজ চাষ হয়। ছোট পেঁয়াজ লাগানো হয়, তাছাড়া পেঁয়াজের বীজ বপণ করা হয়। কার্তিক মাসের শেষে পেঁয়াজ চাষ শুরু হয় এবং মাঘ মাসের শেষে লাগানো পেঁয়াজ ওঠে। বপণ করা পেঁয়াজ হয় ফাল্গুন মাসে। এক বিঘা জমিতে প্রায় তিন কুইন্টাল পেঁয়াজ বীজ প্রয়োজন। যার দাম এখন ৪-৬ হাজার টাকা প্রতি কুইন্টাল। প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের খরচ কম করে বারো হাজার টাকা। এছাড়াও কয়েকবার সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি সহ খরচ অনেক। জমি থেকে পেঁয়াজ তোলার পর বেশি দিন রাখা যায় না বলে বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হয়। সেক্ষেত্রে লাভজনক দাম পান না চাষিরা। নন্দনপুরের আরেক চাষি কাবাজউদ্দিন শেখ জানান, উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার মতো পরিকাঠামো থাকলে চাষিরা লাভবান হতেন। উত্তরপ্রদেশ কিংবা মধ্যপ্রদেশে চাষে বীজ বোনা থেকে বাছাই করা কাটার কাজ মেশিনে করা হয়। সারা দিনে দুজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এখানে সেই কাজ করতে অনেক বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন। তাই নিজের জমিতে চাষ করলে লাভ না হলেও খুব বেশি সমস্যা হয় না। কিন্তু যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছে তাদের চরম সংকটে পড়তে  হয়। করিমপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, করিমপুর রেগুলেটেড মার্কেটে একটা হিমঘর তৈরি হলেও সেটা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। চাষিরা সেটা ব্যবহার করতে পারেন না। এলাকায় একটি হিমঘর তৈরি করা যায় কিনা সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ