সংবাদদাতা, বহরমপুর: হিমঘরে আলু মজুত রাখার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর জন্য চাষি কিংবা ব্যবসায়ীদের বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৯ টাকা ৩৩ পয়সা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার আটটি হিমঘরের মধ্যে ছ’টি হিমঘর মালিক সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছে। তবে, বড়ঞা ব্লকের একটি সমবায় পরিচালিত হিমঘর ও একটি বেসরকারি মালিকাধীন হিমঘর বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছে না। হিমঘর মালিকপক্ষের একটি সূত্রের খবর, মুর্শদাবাদে সবকটি হিমঘরে সাকুল্যে ৬-৭ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। যা দিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে নতুন আলু মাঠ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ না উঠলে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।
গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হিমঘরে আলু মজুত রাখার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে সমস্ত আলু চাষি এবং ব্যবসায়ীরা বের করে নিলে জেলায় আলুর আকালের সম্ভাবনা দেখা দিত। রাজ্য সরকার হিমঘর মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সীমা বাড়িয়ে ডিসেম্বরের শেষ দিন পর্যন্ত করেছে। ফলে চাষি, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব শ্রণির মানুষই উপকৃত হয়েছেন। যদিও এক মাসের জন্য আলু মজুতকারিদের বস্তা প্রতি প্রায় ১০ টাকা হারে অতিরিক্ত হিমঘর ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বড়ঞা ব্লকের এক হিমঘরের ম্যানেজার রমেন দাস বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আমাদের স্টোরের সমস্ত আলু খালি হয়ে যাচ্ছে। তাই এই ক’দিনের জন্য কারও কাছেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।
মুর্শিদাবাদে মোট আটটি হিমঘর রয়েছে। সবমিলিয়ে আলু মজুত করার ক্ষমতা ৭১ হাজার মেট্রিক টন। দু’টি হিমঘরে ৪০ হাজার প্যাকেট করে আলু রয়েছে। বাকিগুলিতে তলানিতে এসে ঠেকেছে। হিমঘর মালিক জীবন শেখ বলেন, আমার হিমঘরে আজ পর্যন্ত ৪৮ হাজার প্যাকেট আলু মজুত রয়েছে। রাজ্য সরকার যা ভাড়া নির্ধারিত করে দিয়েছে, সেটাই নিচ্ছি। কেউ বর্ধিত ভাড়া না নিলে সেটা তাদের বিষয়। আলু ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, যেসব হিমঘরে আলু মজুত কম রয়েছে, সেগুলিতে ঠান্ডা করার মেশিন ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকার। সেই কারণেই তাঁরা বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছেন না।
আলু নিয়ে এখন একটাই জল্পনা বাতাসে ভাসছে। এবার দেরিতে আলু চাষ হওয়ায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে বাজারে নতুন আলু আমদানি হবে না। তাহলে কী আলুর কালোবাজারি হবে? আলু ব্যবসায়ী পলাশ ঘোষ বলেন, মন্ত্রী বেচারাম মান্না আলু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে পাইকারি, খুচরো বাজারে আলুর দাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে আলুর কালোবাজারি সম্ভব হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সঠিক দামেই কেনাবেচা চলবে।