Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হলদিয়ার ব্রজনাথচক রামকৃষ্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিবরাত্রি পালন ঘিরে উন্মাদনা  

হলদিয়ার ব্রজনাথচক রামকৃষ্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিবরাত্রি পালন ঘিরে উন্মাদনা
 
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, হলদিয়া: মহা শিব চতুর্দশী উদযাপন আসলে নাগরিকবোধের আধ্যাত্মিক জাগরণ। পুরাণ কথিত ত্রিলোকের যে বিশ্বাস মানুষের মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে সত্য-শিব-সুন্দরের আরাধনা যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। পৌরাণিক আখ্যান যাই থাকুক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অন্ধকার মুক্ত হয়ে আলোর দিকেই ধাবিত হতে চায়। হলদিয়ার ব্রজনাথচক রামকৃষ্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্র নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে দু’দশকের বেশি সময় শিব সাধনায় শহরের বহু মানুষকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার শিব চতুর্দশীর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে হলদি নদী পর্যন্ত মহিলাদের মঙ্গলঘট নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। এদিন ব্রজনাথচকের রামকৃষ্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে মহা শিবরাত্রি উৎসবে মাতলেন টাউনশিপের ভক্তরা। এবছর শোভাযাত্রা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়।
Advertisement
এদিন ব্রজনাথচকের জোড়া মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এখানে রয়েছে কালী মন্দির, শিবমন্দির এবং শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামীজির মন্দির। তিনটি মন্দিরের কারণে স্থানীয়দের কাছে এটি জোড়া মন্দির নামেই পরিচিত। টাউনশিপের জোড়া মন্দিরের শিবরাত্রি উদযাপন হলদিয়াজুড়ে সাড়া ফেলেছে। এদিন হলদি ও হুগলি নদীর মোহনায় টাউনশিপের কৃষ্ণার্জুন ঘাট থেকে নদীর জল ঘটে ভরে মন্দিরে ফিরে শিবের মাথায় ঢালেন নানা বয়সের চার শতাধিক মহিলা। শোভাযাত্রার সময় হলদিয়ার সংস্কৃতি সংগঠক আশিস মিশ্রের নেতৃত্বে মহিলা ভক্তরা গান, স্তোত্র পাঠ করেন। 
চার দশকের বেশি আগে রামকৃষ্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্র গড়ে তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি শিল্প আবাসনের ভক্তরাও মিলিত হন। রামকৃষ্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি শক্তিপদ ভুঁইয়া বলেন, ১৯৮৩ সালে শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা, স্বামীজির ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত মানুষজন সমবেত হয়ে এই সংগঠন গড়েন। ধীরে ধীরে তিনটি মন্দির তৈরি হয়। মন্দিরে কল্পতরু উৎসব, কালীপুজো এবং শিবরাত্রি ঘটা করে উদযাপন করা হয়। সংস্থার সম্পাদক বিষ্ণুপদ দত্ত বলেন, সারা বছর ধরেই গরিব মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা, রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো, দুঃস্থ পড়ুয়াদের স্কুলে ভর্তির মতো সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। শনি ও রবিবার পড়ুয়াদের যোগ ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ, ক্যারাটে প্রশিক্ষণ, নাচ ও আঁকা শেখানো হয়। একইসঙ্গে স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বিবেকানন্দ চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ